
ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিন
শেষ আপডেট: 20 March 2024 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকার-রাজ্যপাল বিবাদে এখন দেশে সবচেয়ে আলোচিত নাম তামিলনাড়ু। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তেলেঙ্গানার রাজ্যপালেরা আপাতত রাজ্যের বিরুদ্ধে সংঘাতে ধীরে চলছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর ভিন্ন পরিস্থিতির ছায়া পড়ল শাসক দল ডিএমকে’র নির্বাচনী ইস্তাহারেও।
বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিন ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের দলীয় ইস্তাহার ঘোষণা করে বলেছেন, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে রাজ্যপালদের ক্ষমতা ছাঁটাই করা হবে। আদৌ রাজ্যপাল পদের প্রয়োজন আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়বে নতুন সরকার।
মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোর্সে ভর্তির সর্ব ভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট বাতিল করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন স্ট্যালিন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনও বাতিল করে দেওয়া হবে।
নিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন স্ট্যালিন। তাঁর বক্তব্য, সর্ব ভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা হওয়ার ফলে তামিলনাড়ুর বহু কৃতি ছাত্র-ছাত্রী সুযোগ পাচ্ছে না। অনেক কৃতি পড়ুয়া সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী সরকার গঠন সম্ভব হলে এই প্রবেশিকা পরীক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হবে।
সিএএ নিয়ে ডিএমকে’র আপত্তির সঙ্গে বাকি দলগুলির বিরোধিতার ফারাক আছে। তামিলনাড়ুর আঞ্চলিক দলগুলির দাবি, শ্রীলঙ্কা থেকে বিতাড়িত তামিল ভাষীদেরও ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। শ্রীলঙ্কার জাফনা দ্বীপে সে দেশের মিলিটারির অত্যাচারে বহু তামিলভাষী শ্রীলঙ্কার বাসিন্দা উত্তাল সমুদ্র পেরিয়ে তামিলনাড়ুতে আশ্রয় নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে না। দীর্ঘদিন ভারতে থাকা সত্ত্বেও তাদের এ দেশের নাগরিকত্ব থেকে তাঁরা বঞ্চিত।
আসলে সিএএ-তে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের নাম রয়েছে। শ্রীলঙ্কার নাম নেই। সেই কারণে সিএএ চালু হতে তামিলনাড়ুতেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেখানে বিরোধী দলগুলি ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার আইনের বিরোধিতা করার পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছে প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি ভারত সরকার সদয় হয়ে থাকলে শ্রীলঙ্কার তামিলদের প্রতি নয় কেন।
অন্যদিকে, রাজ্যপাল এন রবির সঙ্গে ডিএমকে সরকারের সংঘাত অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রবি রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল আটকে দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভৎসর্নার মুখোমুখি হয়েছেন। এর আগে তিনি এক মন্ত্রীকে সরিয়ে দিতে বলে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এমন বিতর্কে জড়ান যে চার ঘণ্টার ব্যবধানে তা প্রতাহার করে নেন। এখন আবার তিনি এক ডিএমকে বিধায়ককে মন্ত্রী হিসাবে শপথ পাঠে আপত্তি তুলেছেন। ফলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের আইনি বিরোধ লেগেই আছে। স্ট্যালিন ঘোষণা করেছেন রাজ্যপালদের ডানা ছাঁটা ছাড়া উপায় নেই।