
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সীতারাম ইয়েচুরি
শেষ আপডেট: 25 May 2024 12:40
অমল সরকার
বাংলায় তৃতীয় দফার ভোট শেষ হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি ভোটের পর সরকার গঠনের জন্য ইন্ডিয়া জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন করবেন। তাঁর সেই কথা সর্বভারতীয় স্তরে অনুরণিত হয়েছে। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে মমতার এহেন কথায় উজ্জীবিত।
কৌতূহলের বিষয় হল, সিপিএম মমতার এই কথাকে কীভাবে দেখছে? তারাও ইন্ডিয়া জোটের শরিক। এ ব্যাপারে দ্য ওয়ালের প্রশ্নের জবাব দিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।
সীতারামের দাবি, “ইন্ডিয়া ব্লক জিতবে। ৩০০-র বেশি আসন পাবে ইন্ডিয়া ব্লক”। সীতারামের এ কথা বেশ সাহসী। ইন্ডিয়া জোট ৩০০ পার করে যাবে এমন সাহসী কথা সম্ভবত যোগেন্দ্র যাদব ছাড়া আর কেউ বলেননি। যোগেন্দ্র বলেছেন, এমনিতে এনডিএ জোট ৩০০-র কাছাকাছি আসন পেতে পারে। তবে কেমন যেন একটা মনে হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে উলোটপালট হয়ে গেলে ইন্ডিয়া জোট ৩০০ পেরিয়ে যেতে পারে।
সীতারামকে প্রশ্ন করা হয়, এই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন যে তিনি বাইরে থেকে ইন্ডিয়া জোটকে সমর্থন করবেন। এ ব্যাপারে কী বলবেন? সীতারাম হেসে বলেন, “ওনাকেই জিজ্ঞেস করুন। আমি কী করে বলি”।
কিন্তু তৃণমূল ও সিপিএম দুজনেই তো ইন্ডিয়া জোটে রয়েছে। তৃণমূল সরকারে থাকলে কি সিপিএম থাকবে না? জবাবে সীতারাম বলেছেন, “কে বলেছে তৃণমূল থাকবে? দেখুন না কী হয়!”
কেন্দ্রে সরকারের অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে সিপিএমের বরাবরই দোলাচল রয়েছে। এক সময়ে যাকে ঐতিহাসিক ভুল বলেছিলেন জ্যোতি বসু, তার পার্ট টু হয়েছে। পরমাণু চুক্তি প্রশ্নে বামেরা ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু সীতারাম অন্তত চেয়েছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা টিকে থাকুক। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের গোড়া পর্যন্ত প্রণবের সঙ্গে সে ব্যাপারে দৌত্য চালিয়ে গেছিলেন সীতারাম।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সিপিএম কি সরকারে সামিল হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেন, “এগুলো সব কাল্পনিক প্রশ্ন। পরিস্থিতি দেখে দল সিদ্ধান্ত হবে। এ ব্যাপারে পার্টি কংগ্রেসে কথা হয়েছে তো”।