
শেষ আপডেট: 4 April 2024 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শিবু হাজরার মামলা বারাসত আদালত থেকে ফেরত গেল বসিরহাট আদালতেই। তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য বিশেষ আইনে শিবু-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগকারীরা তাঁদের তফশিলি জাতি বা উপজাতির শংসাপত্র দেখাতে পারেননি। তাই বিচারক মামলা বসিরহাট আদালতে ফেরত পাঠিয়েছেন।
গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিলেন। তারপর থেকে বেপাত্তা হয়ে যান শেখ শাহজাহান। কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে যেতে থাকে সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান ও তার অনুগামী সন্দেশখালি ২ ব্লকের সভাপতি তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য শিবুপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন সন্দেশখালির মানুষ। বিশেষত মহিলারা পথে নামেন।
শিবু হাজরার খামারবাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। জনরোষের চাপে পড়ে পুলিশ ১১ ফেব্রুয়ারি উত্তমকে গ্রেফতার করে। তখন দাবি ওঠে শিবু হাজরাকেও গ্রেফতার করতে হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালির ন্যাজাট থেকে বসিরহাট থানার পুলিশ শিবুকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে তফশিলি উপজাতিভুক্ত মানুষদের জমি দখল ও গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু হয়। এক মহিলা তার বিরুদ্ধে আদালতে গোপন জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।
গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুদিন শিবু পুলিশ হেফাজতে ছিল। তারপর তাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। তফসিলি জাতি ও উপজাতির বিশেষ ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বসিরহাট আদালতের বিচারক মামলাটি বারাসত আদালতে পাঠান। এদিন বারাসত আদালতে মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু আদালতে অভিযোগকারীরা তফশিলি জাতি ও উপজাতির উপযুক্ত শংসাপত্র দেখাতে পারেননি। তারপরই বারাসতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শেখ মহম্মদ রেজা মামলাটি ফের বসিরহাট আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে শিবুর বিরুদ্ধে গণধর্ষণের যে মামলা রয়েছে, তা বারাসত আদালতেই শুনানি হবে।
বারাসত জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শান্তময় বসু বলেন, "শিবু হাজরার বিরুদ্ধে এদিন দু'টি মামলার শুনানি ছিল। বিচারক তার মধ্যে একটি মামলা বসিরহাট আদালতে ফেরত পাঠিয়েছেন। গণধর্ষণের মামলাটি বারাসত আদালতেই বিচার হবে।"