
সাম পিত্রোদা
শেষ আপডেট: 8 May 2024 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কে জড়ালেন সাম পিত্রোদা। যথারীতি ভোটের ভরা মরশুমে দলকেও বিপাকে ফেলেছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা দলের উপদেষ্টা।
এক টিভি সাক্ষাৎকারে ভারতে বিভেদের মধ্য ঐক্যের দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে সাম এমন কথা বলেছেন যা শুনে দলের লোকজনেরাও অসন্তুষ্ট। সাম বলেছেন, দক্ষিণ ভারতীয়রা আফ্রিকার মানুষদের মতো দেখতে। উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের মুখের আদল চিনাদের মতো। আর পশ্চিম ভারতীয়দের সঙ্গে মিল আছে আরবের বাসিন্দাদের সঙ্গে। তারপরও ভারতীয়দের মধ্যে কোনও বিবাদ নেই। সবাই মিলে মিশে বাস করে।
কিন্তু বিজেপি সামের বক্তব্য লুফে নিয়ে ভোটের বাজার গরম করার চেষ্টায় নেমেছে। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, সামের কথায় স্পষ্ট কংগ্রেস দেশে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। অস্বস্তি গোপন থাকেনি কংগ্রেসের। তড়িঘড়ি দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ঘোষণা করেন, সাম যা বলেছেন, তাঁর নিজের কথা। কংগ্রেস তাঁর কথা সমর্থন করে না। এই ধরনের কথা না বলাই বাঞ্ছনীয়।
এর আগে পারিবারিক সম্পদ নিয়ে সামের কথা লুফে নিয়ে বাজার গরম করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নির্বাচনী ইস্তাহারে কংগ্রেস আদানি, আম্বানিদের মতো ধনকুবেরদের প্রসঙ্গে সম্পদের সুষম বণ্টনের কথা বলেছে। এই ঘোষণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাম একটি টিভি সাক্ষাৎকারে আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে বিপুল ধনসম্পত্তির মালিকেরা মারা গেলে তাঁদের সম্পদের অর্ধের রাষ্ট্র অধিগ্রহণ করে নেয়। বাকিটা সন্তানেরা পায়। কংগ্রেসের বিদেশ বিষয়ক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাম উত্তরাধিকার ট্যাক্সের কথাও উল্লেখ করেন।
কালক্ষেপ না করে ওই মন্তব্য নিয়ে নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে সরব হন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বাবা-মায়ের সম্পদও ছেলেমেয়েরা পাবে না। পর পর মুখ খোলেন অমিত শাহ, রাজনাথ সিংয়ের মতো নেতারা।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতার সেই মন্তব্যের জেরে ড্যামেজ কন্ট্রোলে স্বয়ং রাহুল গান্ধীকে আসরে নামতে হয়। রাহুল বলেন, উত্তরাধিকার ট্যাক্স চালু, সম্পদ কেড়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সামও বিবৃতি দিয়ে বলেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।