
শেষ আপডেট: 15 April 2024 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা, বিধানসভার নির্বাচনে ভোটাররা একটি করে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচনী আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে সেকথা। অথচ মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গনার সীমান্ত এলাকার ১৪টি গ্রামের প্রায় চার হাজার ভোটার এবারও দুটি করে ভোট দেবেন।
তবে একদিনে নয়। তারা প্রথম ভোটদান করবেন ১৯ এপ্রিল। ওইদিন মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর লোকসভা আসনের ভোটার হিসাবে ভোট দেবেন। ফের ভোট দেবেন ১৩ মে। ওই দিন ভোট নেওয়া হবে তেলেঙ্গনার আলিদাবাদ লোকসভা আসনের জন্য।
আইন বিরুদ্ধে জেনেও বছরের পর বছর ওই ১৪ গ্রামের ভোটারদের লোকসভা নির্বাচনে দুটি করে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কারণ তাদের পক্ষে কারও ভোটাধিকার বাতিল করার সুযোগ নেই। ওই ১৪ গ্রামের হাজার চার ভোটার মহারাষ্ট্র এবং তেলেঙ্গনা, দুই রাজ্যেরই বাসিন্দা।
শুধু দুই রাজ্যের দুই লোকসভা আসনের ভোটার তালিকায় নাম থাকাই নয়, ওই ১৪ গ্রামের বাসিন্দাদের রেশন কার্ড, আধার-সহ অন্যান্য নথিপত্রও দুটি করে। এমনকী জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেটও দুটি। আছে দুই রাজ্যের পঞ্চায়েত অফিস এবং বিডিও-র দফতর। আছে দুই রাজ্যের স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। ফলে দুই রাজ্যের সুযোগ সুবিধাও পেয়ে থাকেন ১৪ গ্রামের হাজার ছয় বাসিন্দা। ফারাক শুধু জল ও বিদ্যুতের বিলে। তেলেঙ্গানা সরকার ওই দুটি জরুরি পরিষেবা দিয়ে থাকে বিনামূল্যে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র সরকার চার্জ নিয়ে থাকে।
কেমন করে এমন বিচিত্র ঘটনা ঘটল। জানা যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতির সূত্রপাত ১৯৫৬ সালে। সে বছর মহারাষ্ট্র ভেঙে তৈরি হয় অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য। ২০১৪-তে সেই অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য ভেঙে তৈরি হয় তেলেঙ্গানা। তখনও মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সীমানা বিবাদ মেটেনি।
তেলেঙ্গনা এবং মহারাষ্ট্র, দুই সরকারই ৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অবস্থিত ওই ১৪ গ্রামের মালিকানা দাবি করে আসছে। সরকারি সূত্রের খবর, কর্নাটকের সঙ্গেও মহারাষ্ট্রের এই ধরনের সীমানা বিবাদ আছে। যদিও বিতর্কিত গ্রামগুলি রয়েছে কর্নাটকের দখলে। প্রায়ই মহারাষ্ট্র প্রশাসন সেগুলি দখল নেওয়ার চেষ্টা করে।
চিন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমানা বিবাদের মতো দেশের অভ্যন্তরে রাজ্যগুলির মধ্যে কয়েকটি গ্রামের দখলদারী নিয়ে বিবাদে প্রশাসনিক কর্তারা বিরক্ত। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব কিছুতেই সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন বিরুদ্ধেভাবে গ্রামবাসীরা দুটি করে ভোট দেওয়ায় এর আগে পদক্ষেপ করেছিল কমিশন। তারা বিশেষ ক্ষমতা বলে গ্রামবাসীদের বলেছিল যে কোনও একটি কেন্দ্রের জন্য তারা ভোট দিতে পারবেন। কে কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ভোটার নেবেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা তা মানেননি। প্রতিবাদে তারা ভোট বয়কটের ডাক দেয়। ফলে কমিশন একবার ভোটদানের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয়।