
শেষ আপডেট: 5 April 2024 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার আরও ৫জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র। সন্দেশখালির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকেই যে বসিরহাটে প্রার্থী করা হতে পারে, দ্য ওয়ালে আগেই একথা লেখা হয়েছিল। হলও তাই।
সন্দেশখালি কাণ্ডে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশ। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তিও পান নিরাপদ। তাঁর নেতৃত্বে নতুন করে এলাকায় সংগঠন সাজাচ্ছে সিপিএম। এমন আবহে নিরাপদকে প্রার্থী করার ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ, বসিরহাট লোকসভা আসনটি বামেদের শরিক দল সিপিআইয়ের আওতায় ছিল। অতীতে এই আসন থেকে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছেন সিপিআইয়ের কিংবদন্তি নেতা ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত থেকে অজয় চক্রবর্তী।
একই সঙ্গে আসন সমাঝতার প্রশ্নে নওসাদ সিদ্দিকীর আনা অভিযোগও এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে নওসাদ জানান, "বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে আমরা জোট চেয়েছিলাম। কিন্তু বামেদের জন্য সেই জোট হল না।"
এদিন বিমান বলেন, "কী করে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারে? ৪টের মিটিংয়ে আইএসএফের লোকজন এসেছে পাঁচটার সময়। ১৫-২০ মিনিট দেরি হতে পারে, সেখানে ১ ঘণ্টা দেরি করে আসা। কথাটা এই কারণে বলছি, কারণ, আসন সমঝতার প্রশ্নে ওদের আন্তরিকতা যে ছিল না, সেটা এখন স্পষ্ট।"
এদিন বসিরহাটের পাশাপাশি ব্যারাকপুর, বারাসত, ডায়মন্ড হারবার এবং ঘাটালে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে বামেরা। ব্যারাকপুর দেবদূত ঘোষ, বারাসত প্রবীর ঘোষ, ডায়মন্ড হারবার প্রতিকুর রহমান এবং ঘাটালে তপন গঙ্গোপাধ্যায় লড়াই করবেন।
বিমান বলেন, "আমরা প্রথম থেকেই আসন সমঝতার পক্ষে ছিলাম। তাই এসইউসিআইয়ের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। শাসক বিরোধী ভোটকে একত্রিত করতে চেয়েছিলাম। তাই দফায় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।" বিমান বোঝাতে চেয়েছেন, আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝতা না হওয়ার জন্য সিপিএম নয়, দায়ী টিম নওসাদ। এ ব্যাপারে নওসাদের অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এর আগে চারদফায় বামেরা ২৩জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আসন সমঝতার জন্য ১২টি আসন ছেড়ে রেখেছে বামেরা। মথুরাপুর এবং জয়নগরে কাদের প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বামেরা। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট দুটি এলাকায় সাংগঠনিক দিক থেকে এসইউসিআই শক্তিশালী। অর্থাৎ বিরোধী ভোট ভাগ ঠেকাতে এখনও আসন সমঝতার বিষয়ে আশাবাদী সিপিএম।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারে বামেদের প্রার্থী তালিকায় তারুণ্যের ছড়াছড়ি। সাংবাদিক বৈঠকে বিমানও বলেন, "এবারে আমাদের প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশের বয়সই ৩০ থেকে ৫০ এর মধ্যে।"