
শেষ আপডেট: 17 April 2024 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামনবমীতে রামের আরাধনায় মোটেই জমি ছাড়ল না তৃণমূল। সমানে সমানে টক্কর দিল বিজেপির সঙ্গে। সকালে জন সংযোগ করতে বেরিয়ে জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ঘাটালের প্রার্থী দেব। তারপরেই রামের ভজন-পূজনে গিয়ে ঢাকের বোলে তাক লাগালেন তমলুকের প্রার্থী দেবাংশু। অন্যদিকে হুগলির প্রার্থী রচনা প্রশ্ন তুললেন রাম আবার কবে বিজেপির হল!
তাম্রলিপ্ত পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের উদ্যোগে গত ১৬ বছর ধরে রামনবমীর পুজো করে আসছে তমলুক শহরে। বুধবার পুজো শুরু হতেই সেখানে পৌঁছে গেলেন স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। সেখানে ঢাকে বোল তুললেন তিনি। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ ধরে বাজালেন ঢাক। বললেন, "ধর্মের মধ্য দিয়ে যে রামকে আমরা পাই সেই রাম হল পুরুষোত্তম। তাঁর প্রতি গোটা ভারতবর্ষের শ্রদ্ধা আজও অটুট। আস্থাও অটুট। আমাদের প্রতিবাদ রামচন্দ্রকে রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে আনা নিয়ে। আমাদের ঈশ্বরকে রাজনীতির ময়দানে দেখতে চাই না। তাকে আমরা যজ্ঞে হোমে ধুপের গন্ধে দেখতে চাই। আমাদের কাছে এই রামই শ্রেষ্ঠ।"
এদিন চন্দননগরের সাহেববাগান এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ক্ষ্যাপা কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে যান ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হনুমান মন্দিরে। পুজো দেন। পরে বলেন, "রাম সীতা লক্ষ্ণণ হনুমানজি সকলের। এটা বিজেপির কবে থেকে হল। আমরা সব ঠাকুরকে পুজো করি। লক্ষ লক্ষ ভগবান ভারতবর্ষে। রাম সীতা লক্ষ্ণণ হনুমানজিরও পুজো করি।যেখানে যেখানে রামের পুজো হচ্ছে আমি সেখানে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে এসেছি।"
অন্যদিকে দেব তো ঘাটালে জন সংযোগে বেরিয়ে রামকে পুজো করেই ক্ষান্ত থাকেননি। একেবারে জয় শ্রী রাম ধ্বনিও দিয়েছেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছেন একজন এই স্লোগান ব্যবহার করে বলে পুরোটাই তো তার নয়। ঠাকুর তো কারও একার নয়। ছোটবেলা থেকে মা-বাবার কাছে এমনটাই শিখেছেন। সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করাই পরম ধর্ম।
দেবের স্লোগান কানে যেতেই শুভেন্দু কটাক্ষ করেন, ভক্তিতে নয়, ভয়ে স্লোগান দিয়েছেন দেব। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা তমলুকের তুষারকান্তি দাস দেবাংশুকে কটাক্ষ করে বলেন, "ধাপে ধাপে রামের আশ্রয়ে আসতে হবে সকলকে। নইলে খুনি পাপী লুটেরাদের রক্ষে নেই।" রামনবমীতে রামের জন্ম কিনা তা নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। তবে ভোটের মুখে এই রামনবমীতে বাংলার রাজনীতিতে তাঁর আবির্ভাব স্মরণীয় হয়ে থাকল।