
রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং রবার্ট বরঢা
শেষ আপডেট: 4 May 2024 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মধ্যে সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। যে কোনও দিন প্রিয়ঙ্কা ও তাঁর স্বামী রবার্ট বরঢা প্রকাশ্যে রাহুল এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন।
শনিবার নতুন করে গান্ধী পরিবারের ভাই-বোনের ‘বিরোধ-কাহিনি’ প্রচার শুরু করল বিজেপি। সকালে ট্যুইট করেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবিয়া। তাঁর কথায়, রাহুল গোষ্ঠী প্রিয়ঙ্কা ও রবার্টকে কোণঠাসা করে দিয়েছে।’
রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার মধ্যে বিরোধ চলছে, কেউ কাউকে সহ্য করতে পারেন না বলে বিজেপি বহুদিন ধরেই প্রচার চালাচ্ছে। গত বছর রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গান্ধী পরিবারের ভাই-বোনের বিরোধ নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে দলের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রচার করে। তাতে দাবি করা হয়, দু’জনের সম্পর্ক এতটাই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যে প্রিয়ঙ্কা এবার দাদাকে রাখি পর্যন্ত পরাননি।
যদিও দাদাকে রাখি পরানোর ছবি প্রকাশ করে প্রিয়ঙ্কা বিজেপির মুখ বন্ধ করে দেন। তার আগে রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রার সময়ও ভাই-বোনের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে বলে প্রচার চালায় পদ্ম শিবির। যদিও শুধু প্রিয়ঙ্কাই নয়, রাহুলের সঙ্গে মাইলের পর মাইল হাঁটেন তাঁর স্বামী রবার্টও।
তারপরও নতুন করে ভাই-বোনের বিরোধ-কাহিনি বিজেপি প্রচার শুরু করেছে শনিবার সকাল থেকে। ইস্যু অমেঠির প্রার্থী। রাহুল গান্ধীর পরিবর্তে অমেঠিতে এবার কংগ্রেস প্রার্থী করেছে কিশোরীলাল শর্মাকে। তিনি রাহুল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২৫ বছর পর এবারই অমেঠিতে গান্ধী পরিবারের প্রার্থী নেই।
অমেঠিতেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন প্রিয়ঙ্কার স্বামী রবার্ট। তাঁর বক্তব্য, ‘২০০৪ সাল থেকে অমেঠির সঙ্গে আমার পরিচয়। হাতের তালুর মতো চিনি অমেঠিকে।’ আসলে রাহুলের প্রচার এবং অন্য সময়ও অমেঠিতে সময় দিয়েছেন রবার্ট। অবশ্যই স্ত্রী প্রিয়ঙ্কার সঙ্গী হিসাবে। রবার্ট সম্প্রতি এমনও বলেন, ‘সক্রিয় রাজনীতিতে না থেকেও অমেঠিতে আমি বেশ জনপ্রিয়। এলাকার মানুষ আমাকে চান।’
রবার্ট আরও দাবি করেন, শুধু অমেঠি কেন, মোরাদাবাদ এবং হরিয়ানার কোনও আসন থেকে টিকিট দিলেও তিনি জিতবেন। কিন্তু কংগ্রেস অমেঠিতে রাহুলের পছন্দের লোককে প্রার্থী করেছে। রবার্টকে কোনও আসনেই এখনও পর্যন্ত টিকিট দেয়নি। সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। প্রিয়ঙ্কা প্রার্থী না হওয়ায় তাঁর স্বামী কোনও আসনে লড়াই করতে পারেন। যদিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ব্যাপারে মুখ খোলেনি।
বিজেপি রবার্টের কথাকেই হাতিয়ার করে রাহুল-প্রিয়ঙ্কার বিরোধ কাহিনি প্রচার করছে। আগেও পদ্ম শিবির প্রচার করেছে, রাহুল কিছুতেই প্রিয়ঙ্কাকে এগতে দিতে চান না। নিজে বার বার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও বোনকে জায়গা ছাড়তে নারাজ। অথচ, ‘প্রিয়ঙ্কা লাও-কংগ্রেস বাঁচাও’ বলে দলের কর্মী-সমর্থকেরা বছরের পর বছর আওয়াজ তুলে চলেছে।