
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 June 2024 17:38
প্রীতি সাহা ও প্রিয়াঙ্কা পাত্র
প্রতীক্ষা অবসানের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আগামিকাল, মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হবে কার কপালে উঠবে মঙ্গল-তিলক। কার কপালে নাচছে শনির দশা। দেশে সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে দেশজুড়ে। তার মধ্যে বাংলার ৪২টি আসনের গণনা হবে ৫৫টি কেন্দ্রে। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে গণনার কাজ সম্পন্ন করতে এবং গণনা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তায় একাধিক পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। গণনা কেন্দ্রের বাইরে ২০০ মিটার পর্যন্ত জারি থাকছে ১৪৪ ধারা।
সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, নির্ভুল গণনা প্রক্রিয়া, নির্বাচনোত্তর ও ফল পরবর্তী হিংসা রোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজ্যের বিরোধী দলগুলি তাতে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারছে না। সিপিএমের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম গণনায় কারচুপির সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে আগাম নালিশ জানিয়ে রেখেছেন। অপরদিকে, বিজেপি অভিযোগ তুলেছে আইপ্যাকের কর্মীরা কাজ করবে। পুলিশ তাদের সাহায্য করবে। ইভিএম স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় অনেক কিছু ঘটতে পারে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা কাজে লাগবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির।
আশঙ্কা-উদ্বেগ সত্ত্বেও গণনা কেন্দ্রগুলিতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় থাকছে। প্রথম পর্যায়ে থাকবে লাঠিধারী ও এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ এবং এরপর বাকি গণনা কেন্দ্র ঘিরে তৃতীয় পর্যায়ে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্যের ৫৫ টি গণনা কেন্দ্রে নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ৯২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। থাকবে ২৫২৫ জন রাজ্য পুলিশ।
গণনা কেন্দ্রে প্রতি বিধানসভা পিছু একজন করে পর্যবেক্ষক থাকবেন অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ২৯৪ জন গণনা পর্যবেক্ষক থাকবেন। গণনা কেন্দ্রে শুধুমাত্র পর্যবেক্ষকরাই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন। এর পাশাপাশি গণনাকেন্দ্র সহ চারপাশ সিসিটিভিতে মোড়া থাকবে। পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একবারই নির্দিষ্ট ওটিপি দেখার জন্য মোবাইল ব্যবহার করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার। এছাড়া গণনাকেন্দ্রের মধ্যে আর কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না।
গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে একমাত্র সাদা কাগজ ও পেন ছাড়া কোনও কিছু নিয়েই প্রবেশ করা যাবে না। যদি গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কারও কাছে মোবাইল পাওয়া যায়, তাহলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তা বাজেয়াপ্ত করবে এবং নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী তাঁর হাজতবাস অথবা জরিমানা হতে পারে। কোনও সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক, সাম্মানিক সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত কর্মী, চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মী গণনাকর্মী হতে পারবেন না।
একমাত্র প্রার্থী অথবা তাঁর পোলিং এজেন্ট নিজস্ব লোকসভা কেন্দ্রের সব টেবিলে যেতে পারবেন। কাউন্টিং এজেন্টরা নির্দিষ্ট নম্বরের টেবিল ছাড়া অন্য টেবিলে যেতে পারবেন না। গণনা কেন্দ্র থেকে একবার বাইরে বেরিয়ে গেলে আর কেউ ফের ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। শুধুমাত্র অবজারভার ও রিটার্নিং অফিসারদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় রয়েছে।
মিডিয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে গণনা কেন্দ্রে। গণনার যাবতীয় খবরাখবর দেওয়ার জন্য রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক মিডিয়া এনক্লেভে থাকবেন। গণনা কেন্দ্রের ভিতর ছবি করার জন্য একবারই ঢুকতে দেওয়া হবে।
এই মুহূর্তে গণনাকেন্দ্রগুলিতে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। রাজ্যে ৫০৭ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন সাড়ে সাত কোটির বেশি ভোটার।
একনজরে রাজ্যের ভোটচিত্র
মোট ভোটার- ৭,৬০,১০,০০৬।
মোট প্রার্থী- ৫০৭ জন।
স্ট্রংরুম- ৩৯৪টি।
গণনা কেন্দ্র- ৫৫টি।
গণনার জন্য ঘর- ৪১৮টি।
মোট গণনা টেবিল- ৪৯৪৪টি।
রাউন্ড- গড়ে ১৭-২৩। সবচেয়ে বেশি ২৩ রাউন্ড শীতলকুচি (৩১০ ভোটকেন্দ্র) ও দিনহাটা (৩১৮ ভোটকেন্দ্র) বিধানসভা কেন্দ্রে। সবচেয়ে কম ভোট গণনার রাউন্ড ৯। দার্জিলিং লোকসভার চোপরা বিধানসভা কেন্দ্রে।
গণনার কাজের জন্য নিযুক্ত এআরও- ৪১৮ জন।
পোস্টাল ব্যালট এবং ইটিপিবিএস গণনার জন্য ঘর- ৮৬টি।
মোট পোস্টাল ব্যালট- ৩,৩৭,৯৮১টি।
মাইক্রো অবজারভার সহ মোট গণনা কর্মী- ২৫ হাজারের বেশি।
গণনা টেবিল- একজন সুপারভাইজার, একজন গণনা সহায়ক এবং একজন মাইক্রো অবজারভার।