
প্রশান্ত কিশোর ও রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 7 April 2024 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর মনে করেন, বিরোধীদের ভুলেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার ফের ক্ষমতাসীন হতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, মোদী অনেক ভুল করেছেন। একাধিকবার চার-ছয় মারতে গিয়ে লোপ্পা ক্যাচ তুলেছেন। কিন্তু বিরোধীরা ক্যাচ ধরতে পারেনি; ফেলে দিয়েছে।
একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্পর্কেও অনেক কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ২০১৪ থেকে ২০২৪, পুরো দশ বছর সময় পেয়েছেন রাহুল। এবার তিনি সফল না হলে তাঁর উচিত সরে দাঁড়ানো। নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া দরকার।
সামগ্রিকভাবে বিরোধীদের ব্যর্থতা তুলে ধরতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, ২০১৫-’১৬ সালে মোদী একাধিক ভুল করেছেন। তখন একাধিক রাজ্যে বিজেপি হেরে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতির সুযোগ বিরোধীরা নিতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে নোটবন্দি করায় দেশে তুমুল অস্থিরতা তৈরি হয়। টাকা বদলের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে শতাধিক মানুষ মারা যান। কিশোর বলেন, ২০১৮-তে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় বিধানসভার ভোট জিতেছিল কংগ্রেস। অথচ বিরোধীরা এত বড় সাফল্যের সুযোগ ২০১৯-এর লোকসভা ভোট নিতে পারেনি।
ফের মোদী সরকার ক্ষমতায় আসবে মেনে নিয়ে কিশোর বলেছেন, বিজেপির ৩৭০ বা এনডিএ-র ৪০০ পার মোটেই হবে না। সব মিলিয়ে ৩০০ আসন পেতে পারে গেরুয়া শিবির।
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে কিশোরের বক্তব্য, তিনি এখন আর দলের সভাপতি না থাকলেও পার্টির মুখ। এখনও রাহুলকে বাদ রেখে কোনও সিদ্ধান্ত হয় না। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এমনকী প্রতিটি আসনের ব্যাপারে রাহুলই শেষ কথা। কিশোর বলেন, এবার যদি দলকে ভাল অবস্থায় আনতে না পারেন তাহলে রাহুলের সরে দাঁড়ানো দরকার।
প্রসঙ্গত, বছর দুই আগে কংগ্রেসের পুনর্জাগরণ নিয়ে কিশোর যে পরিকল্পনা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দিয়েছিলেন তাতে তিনি সনিয়া গান্ধীকেই দলের মুখ করার কথা বলেছিলেন। সনিয়ার অসুস্থতা সত্ত্বেও কিশোর মনে করেন, তাঁকে ঘিরে কংগ্রেসের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অনেক বেশি আবেগ কাজ করে। সনিয়া রাজি না হলে প্রিয়ঙ্কাকে সামনে আনার পরামর্শও দেন প্রশান্ত।
কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। সনিয়ার জায়গায় সভাপতি হন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। অন্যদিকে, রাহুলকে করা হয় দলের মুখ। সেই ভাবনা থেকে রাহুলের নেতৃত্বে ভারত জোড়ো যাত্রা এবং ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা সংঘঠিত করে দল। কিশোরের বক্তব্য, নিজেকে প্রমাণ করতে একজন ব্যক্তির জন্য দশ বছর অনেকটা সময়।
কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা, বিশেষ করে রাহুল বারে বারে অভিযোগ করে থাকেন, নরেন্দ্র মোদীর জমানায় নির্বাচন কমিশন-সহ সব কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বিজেপির তাবেদারে পরিণত হয়েছে। এই অভিযোগ মেনে নিয়ে কিশোরের বক্তব্য, ২০১৯-এর আগে তা আজকের চেহারা নেয়নি। তাহলে কংগ্রেসের আসন কী করে ২০৬ থেকে কমে ৪৪ হয়ে গেল?