
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 April 2024 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফার মতো শুক্রবার দ্বিতীয় দফাতেও ২০১৯-এর তুলনায় ভোট কম পড়েছে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তর প্রদেশ, অসমের মতো বড় রাজ্যগুলির পাশাপাশি ভোট হয়েছে ত্রিপুরা, মণিপুরের মতো ছোট রাজ্যেও।
বিগত লোকসভা ভোটে দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছিল ৬৯.৬৪ শতাংশ। সেখানে এবার ভোটের হার ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি। প্রথম দফাতেও ভোটের হার আগের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় কম ছিল। এবার ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট পড়ে ৬৩ শতাংশ। আগের বার পড়েছিল ৬৬ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুক্রবার গড় ভোটদানের হার কম হওয়ার কারণ তিনটি বড় রাজ্য মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে। ওই তিন রাজ্যে ভোটের হার অনেকটাই কম। এরমধ্যে বিহার ও উত্তর প্রদেশকে বিজেপির গড় ধরা হয়। ওই দুই রাজ্য থেকেই এবার বাড়তি আসন ছিনিয়ে নিয়ে ৪০০ পারের স্বপ্ন দেখছেন নরেন্দ্র মোদী।
আগের দফার ভোটের পর বিজেপির প্রচার কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। উন্নয়নের তুলনায় ধর্মীয় ইস্যুতে প্রচার শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে সরাসরি নিশানা করেন মুসলিমদের।
বিজেপি সূত্রের খবর, ভোটদানের হার কম হওয়াই শুধু নয়, দল নজর করেছে সংখ্যালঘুররা তুমুল উৎসাহ নিয়ে ভোট দিচ্ছেন। সেখানে বিজেপির ঝুলির ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম। ভোটের দিনে বুথের চিত্র থেকে এই দিকটা নজর করেছে দল। ভোট পরবর্তী সমীক্ষা চালিয়েও এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে দল।
বিজেপির এক প্রবীন নেতার কথায়, এই দুটি কারণ হতে পারে। এক. ঘরের ভোটারের মধ্যেও ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছে। দশ বছর ক্ষমতায় থাকলে সুবিধা পাওয়া এবং না পাওয়া লোকের ফারাক চওড়া হয়। সুবিধা বঞ্চিতরা ভোটদানে কম উৎসাহী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। দুই. বিজেপি সমর্থক বহু ভোটার ধরে নিয়েছেন দল ক্ষমতায় আসছেই। এই নিশ্চয়তার কারণে অনেকেই বিগত নির্বাচনগুলির মতো উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বুথে যাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, অনেকেই ভোট দিতে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে বাড়ি ফেরেননি।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত মহারাষ্ট্র, বিহার এবং উত্তর প্রদেশে ভোট পড়ে যথাক্রনে ৫৯.৬ %, ৫৭% এবং ৫৪.8% শতাংশ। সেখানে ২০১৯-এ এই তিন রাজ্যে ভোটদানের হার ছিল যথাক্রমে ৬৩%, ৬৩% এবং ৬২%। সেখানে বাংলায় শুক্রবার বিকাল ৫’টার মধ্যেই ৭২ শতাংশ ভোট পড়ে।
ভোট কম পড়াটা শুধু শাসক দলের জন্যই দুশ্চিন্তার এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ভোট বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে দেখা গিয়েছে বেশি ভোট মানে সরকার বদলেক তারণা থেকে মানুষ বুধে গিয়েছে। এবার ভোটের সেই অর্থে কোনও হাওয়া নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে-বিপক্ষে বিরাট কোনও ইস্যু নেই। সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো ইস্যু নেই বিরোধীদের হাতেও। তবে বিরোধীরা সামান্য হলেও ২০১৯-এক তুলনায় এগিয়ে। তাহল, এবার অনেকগুলি বড় রাজ্যে বিরোধী দলগুলির মধ্যে আসন বোঝাপড়া হয়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উত্তর প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা।