
শেষ আপডেট: 19 April 2024 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা সত্ত্বেও প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে সামনে এসেছে একাধিক অশান্তির ঘটনা। যার সিংহভাগই কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র থেকে। খালি হাতে বোমা কুড়িয়ে এবার বিতর্কে রাজ্য পুলিশও।
ঘটনাটি কোচবিহারের দিনহাটা থানার ভেটাগুড়ি এলাকার। ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের অন্দরেই। সেই সঙ্গে তাঁদের অনেকের স্মৃতিতে ফিরছে লালগড়, নানুরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোটের সকাল থেকেই ভেটাগুড়ি এলাকায় চলছিল বোমাবাজি। ঘটনায় বিজেপি এবং তৃণমূল একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিনহাটা থানার পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তা সংলগ্ন মাঠ। তার পাশেই পড়েছিল বোমা। এক পুলিশকর্মীকে দেখা যায় কোনরকম প্রোটেকশন ছাড়াই তিনি খালি হাতে একটি দুধের কেনে বোমাটিকে তুলছেন! বোম ডিস্পোজাল টিম ছাড়াই এভাবে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বিতর্কে পুলিশ।
সেই ছবি দেখে শিউরে ওঠেন অনেকে। অনেকেরই স্মৃতিতে ভেসে ওঠে দেড় দশক আগে লালগড়ের ঝিটকার জঙ্গলে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা।
কী ঘটেছিল লালগড়, নানুরে?
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর। পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ের ঝিটকার জঙ্গলে সেই সময় সক্রিয় মাওবাদীরা। ঝিটকার জঙ্গলে মাইনের খবর পেয়ে হাজির হয়েছিলেন লালগড় থানার পুলিশ কর্মীরা। কোনও ধরনের বিশেষ পোশাক ছাড়া ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে ক্যান-মাইন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ঘটেছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল বম্ব স্কোয়াডের দু’জন কর্মীর। পুলিশের সেই মাইন নিষ্ক্রিয় করার ছবি তুলতে গিয়ে জখম হয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিনিধিও।
লালগড়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল তারও ৫ বছর পর। ২০১১ সালে বীরভূমের নানুরেও বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল জেলা গোয়েন্দা দফতরের এক কর্মীর।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একের পর এক ঘটনার পরেও যে পুলিশকর্মীদের একাংশ শিক্ষা নেননি, দিনহাটার ভেটাগুড়ির ঘটনা তার প্রমাণ।