
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 14 May 2024 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরদ পাওয়ারের পর এবার উদ্ধব ঠাকরেকেও মহারাষ্ট্রের সরকারি জোটে আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘উদ্ধব ঠাকরের উচিত কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে আমাদের সঙ্গে চলে আসা। উনি আমাদের পুরনো বন্ধ।’ প্রধানমন্ত্রী এমন কথাও বলেছেন, ‘উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে বিজেপির কোনও বিরোধ নেই। তারজন্য দরজা খোলা।’
পাল্টা সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা বালা সাহেব ঠাকরে পুত্র উদ্ধব। এমনকী একথাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিবসেনার যে ৪০ বিধায়ক দল ছেড়ে গিয়েছেন তাঁদের আর ঘরওয়াপসির কোনও সুযোগ নেই।
গত সপ্তাহে পুণেতে শরদ পাওয়ারের খাস তালুকের জনসভায় মোদী এনসিপি-র প্রতিষ্ঠাতাকেও মহারাষ্ট্রে বিজেপি জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এনসিপি ভেঙে সেই জোটে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন শরদের ভাইপো অজিত পাওয়ার। মোদীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন শরদও। বলেছেন, গান্ধী-নেহরুর রাজনীতির সঙ্গে মোদীর দলের বিরাট ফারাক। আমি বিভাজন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।
তাৎপর্যপূর্ণ হল প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী শিবিরের দুই নেতাকে এইভাবে শাসক জোটে যোগ দিতে আহ্বান জানানোর দায় মহারাষ্ট্র বিজেপি নেতারা নিচ্ছেন না। তারা শুধু চেষ্টা করছেন নিজেদের মতো করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে। কেন প্রধানমন্ত্রী এমন কথা বলেছেন সে ব্যাপারে পদ্ম শিবিরের নেতারা অন্ধকারে। বরং দুই শরিক একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরক্ত।
যদিও সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী শিবিরে পাওয়ার ও উদ্ধবকে নিয়ে সংশয় তৈরি করার কৌশল নিয়েছেন। কিন্তু দল মনে করছে ভিন্ন বার্তাও যাচ্ছে মোদীর কথায়। বিরোধী জোট মহা বিকাশ আগারি প্রচার করছে, রাজ্যের ৪৮ আসনে বিজেপির নেতত্বাধীন জোটের অবস্থা ভাল নয়। সেটা প্রধানমন্ত্রী বুঝে গিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী জোট এবার বেশ মজবুত। তাই মোদী ভোটের আগে থেকে সমর্থন জোগারে নেমে পড়েছেন।
স্বভাবতই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছে মহারাষ্ট্র বিজেপির দুই মুখ উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফরণবিশ এবং রাজ্য পার্টির সভাপতি চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলেকে। দু’জনেই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী কোনও বিশেষ উদ্দেশে একথা বলেননি। শিবসেনা একটা সময় বিজেপর সঙ্গে ছিল। আমাদের সঙ্গে বিরোধের কারণ উদ্ধব ঠাকরের হাত ধরা নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন। যদিও পর পর বিরোধী শিবিরের দুই শীর্ষ নেতার দিকে প্রধানমন্ত্রীর হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভিন্ন বার্তাই গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিজেপি নেতা। পদ্ম শিবির তাই জোরকদমে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে।
এনসিপি-র শরদ গোষ্ঠীর নেতা শরদ পাওয়ার গত সপ্তাহে মন্তব্য করেছিলেন লোকসভা ভোটের পর সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। সেই সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ‘গান্ধী-নেহরুর রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে আমি সরছি না।