
শেষ আপডেট: 17 April 2024 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা ভোট হচ্ছে। এবারও মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক দুটি আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। বুধবার বিজু জনতা দল জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বর্তমান কেন্দ্র হিঞ্জিলির পাশাপাশি কাণ্টাবাজি আসনেও লড়াই করবেন।
প্রসঙ্গত, নবীনের দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়া নতুন নয়। ২০১৯ -এ তিনি হিঞ্জিলির পাশাপাশি বিজেডি সুপ্রিমো বিজেপুর আসনেও লড়াই করেন। পরে দ্বিতীয় আসনটি ছেড়ে দেন।
প্রশ্ন হল, বিধানসভায় দুই তৃতীয়াংশ আসন দখলে পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী বিজেডি সুপ্রিমো দুটি আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত কেন নিলেন। বিশেষ করে তাঁর দল যখন তাঁকে রাজ্যের নব রূপকার বলে দাবি করেছেন, তখন নিজের আসনে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কতটা নিরাপদ তা নিয়ে কেন সংশয় তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পিছনে দুটি সিদ্ধান্ত কাজ করছে। এক. নবীন নিজে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ষষ্ঠবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি টানা ২৪ বছরের বেশি সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ড অর্জন করবেন। বর্তমানে সেই রেকর্ড সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংয়ের দখলে রয়েছে। তার আগে ছিল বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দখলে।
নবীনের দ্বিতীয় আসনে প্রার্থী হওয়ার পিছনে আর একটি কারণ হল, রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তে আদিবাসী বহুল এলাকায় বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব। নবীন ওই এলাকায় দলের মনোবল বৃদ্ধির উদ্দেশে সেখানে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ওই এলাকায় বিজেপি পাঁচটি লোকসভা আসনের সব ক'টিতেই জয়ী হয়। যদিও সেখানকার ৩৫টি বিধানসভা আসনের ২২টি নবীনের দল জিতেছিল। তার একটি ছিল বিজেপুর। যেখান থেকে নবীন জিতেছিলেন। কিন্তু ভোটের পর ওই আসন ছেড়ে দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ উগরে দেন।
ঘটনা হল, এবারও দারিদ্রপীড়িত পশ্চিম ওড়িশারই একটি আসন কাণ্টাবাজিকে দ্বিতীয় কেন্দ্র হিসাবে বেছে নিয়েছেন নবীন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, এবার ভোটের পর কী করবেন বিজেডি সুপ্রিমো। তিনি কি পুরনো কেন্দ্র হিঞ্জিলি ছেড়ে দেবেন। নাকি সেখান থেকে জয়ী হওয়া নিয়ে সংশয় আছে তাঁর।
জানা গিয়েছে, নিরাপদ আসন বেছে নিতে নবীনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে আরও একটি বিষয়। ২০৩৬-এ রাজ্য হিসাবে ওড়িশার একশো বছর পূর্ণ হবে। শতবর্ষকে সামনে রেখে নতুন ওড়িশা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শারীরিক কারণে ২০৩৬ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকা হয়তো মোটেই সহজ হবে না নবীনের পক্ষে। এবার ক্ষমতা ধরে রেখে শতবর্ষের পরিকল্পনা শুরু করে দিতে চান তিনি।