
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 May 2024 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সকালে বহু বাঙালি যখন সবে লুচি তরকারি খেয়ে উঠেছে, শেষ পাতে কড়াপাকের সন্দেশ দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফেলু মোদকের যেমন জল ভরা, তেমনই এই কড়া পাকের মধ্যে ষোল আনাই খাঁটি ‘হিন্দু-মুসলমান’ চব্য!
এদিন প্রথমে ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সমর্থনে সভা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এখানে তৃণমূলের বিধায়ক বলেছেন, হিন্দুদের ভাগীরথীতে ছুড়ে ফেলে দেবেন”। চোয়াল শক্ত করে প্রধানমন্ত্রী এর পরই বলেন, “এত হিম্মত? এত সাহস?” তাঁর দাবি, “বাংলায় হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছে।”
হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখার প্রসঙ্গটি কদিন আগেও বাংলায় এসে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর বিরোধীরা কিছুটা ছিঃ ছিঃ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অধীর চৌধুরীরা বলেছেন, এই ধরনের উস্কানিমূলক কথা অন্তত প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোভা পায় না। বিজেপির নিচু তলার নেতারা এসব কথা বলেই থাকেন, তা বলে প্রধানমন্ত্রী এসে এমন উস্কানি দেবেন?
কিন্তু এই সব সমালোচনায় যে তিনি আমল দিচ্ছেন না, প্রধানমন্ত্রী রবিবার তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। হিন্দু-মুসলমান তর্ক বাঙালির মর্মে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডি জোট এলে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ তুলে দেবে। ওরা বলছে পুরো সংরক্ষণ এবার মুসলমানদের দেওয়া হোক।” ভিড়ের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা এটা মেনে নেবেন? দেশের দলিত, আদিবাসী, অনগ্রসর শ্রেণি এই অন্যায় সহ্য করবে?”
এই প্রসঙ্গেই কর্নাটকের উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কর্নাটকে ওবিসিদের প্রাপ্য সংরক্ষণ গোটাটাই মুসলমানদের দিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তাই বাংলার ভাই বোনেদের এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে।”
এখানে জানিয়ে রাখা ভাল যে ইন্ডি জোটের কোনও শরিক দলই বলেনি যে সব সংরক্ষণ তুলে দিয়ে মুসলমানদের দেওয়া হোক। কারণ, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়ার বিধান সংবিধানে নেই। তাই তা করার কথাও কেউ বলেনি। তবে হ্যাঁ, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে অনগ্রসর মুসলমানদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা বর্তমানেও রয়েছে। ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় যেমন হিন্দুদের নতুন পদবি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া রয়েছে, তেমন অনগ্রসর মুসলমানদের মধ্যেও কোনও কোনও শ্রেণিকে সেই সুবিধা দেওয়ার দাবি রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, প্রধানমন্ত্রী এদিন গোটা ব্যাপার অতি সরলীকরণ করে পাচনের মতোই বাংলার মানুষকে খাওয়াতে চেয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ও বিধেয়ও ততটাই জলের মতো সহজ। তা হল হিন্দু ভোটের মেরুকরণ।
বাংলায় হিন্দুদের বরাভয় দিতে এদিন ব্যারাকপুরের সভা থেকে পাঁচ গ্যারান্টিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যত দিন মোদী রয়েছেন, ততদিন ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হবে না, দুই- তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি সংরক্ষণ কেউ খতম করতে পারবে না, তিন- বাংলায় রামনবমী পালনে কেউ বাধা দিতে পারবে না, চার- রাম মন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় কেউ উল্টে দিতে পারবে না এবং পাঁচ নাগরিকত্ব আইন নাকচ করতে পারবে না।
আর হ্যাঁ, বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এও বলে গেছেন, তিনি চলে যাওয়ার পর বিজেপি কর্মীদের কাজ হবে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়া। আর মানুষের কানে কানে বলা—জয় শ্রী রাম!