
শেষ আপডেট: 2 March 2024 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় মহিলাদের বড় অংশের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরাবরই একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একুশের বিধানসভা ভোটের ফলাফলেও তা বেশ স্পষ্ট ছিল। সে ভোটে উপরি অনুঘটক বলতে ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রতিশ্রুতি।
কেউ কেউ মনে করেন, মমতার রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে অভাবি পরিবারের এক মেয়ের একার লড়াইয়ের কাহিনী রয়েছে। রাজনীতি নির্বিশেষে সেও হয়তো অনুপ্রাণিত করে অনেককেই। সম্ভবত সে কারণেই একুশের বিধানসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মমতাকে যেভাবে ‘দিদি ও দিদি’ বলে খোঁচা দিয়েছিলেন, তা রুচিশীল মনে হয়নি রাজ্যের বহু মানুষের।
Didi O Didi - respecting a sitting lady Chief Minister your own master very respectful!! Hypocrisy and hypocrites pic.twitter.com/gQBIjqI3FV
— Priyamwada (@PriaINC) December 19, 2023
শুক্রবার বাংলায় এসে তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তি আক্রমণেই গেলেন না প্রধানমন্ত্রী। দিদি ও দিদি টাইপের কোনও খোঁচাও দিলেন না। তবে সন্দেশখালির ঘটনাকে সামনে রেখে বাংলার মহিলাদের মমতার বিরুদ্ধে আন্দোলনমুখর করার কোনও চেষ্টাও ছাড়লেন না প্রধানমন্ত্রী।
সন্দেশখালির স্মৃতি এখন তাজা। সেখানে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে বাংলার বিপুল সংখ্যক মানুষের অসন্তোষ রয়েছে। ক্ষোভ রয়েছে মহিলাদের। তা আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপির রাজ্য নেতারা যেভাবে সন্দেশখালির মা বোনেদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাকে সাধুবাদ জানাই। তাঁদের আন্দোলনের কারণেই এখানকার সরকার অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে। নইলে কার প্রশ্রয়ে সে দু’মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল সে তো বোঝাই যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘আমি অবাক হয়ে যাই, কিছু লোকের ভোট সন্দেশখালির মহিলাদের আব্রুর থেকে বড় হয়ে গেল!’ সন্দেশখালির ঘটনা গোটা দেশের সামনে বাংলাকে অপমান করেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। '
এখানেই শেষ নয়, সন্দেশখালির ঘটনাকে সামনে রেখে বাংলার মুসলিম মহিলাদেরও এদিন বার্তা দিতে চেয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়,“তৃণমূলের অহঙ্কার হল তাদের একটা নিশ্চিত ভোট ব্যাঙ্ক রয়েছে। এবার তৃণমূলের সেই অহঙ্কার ঘুচবে। এবার মুসলিম মা বোনেরাও তৃণমূলের গুণ্ডারাজকে উপড়ে ফেলতে এগিয়ে আসবে।”
গত দু’বছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি ও রেশন কেলেঙ্কারি নিয়ে বাংলার রাজনীতি এমনিতেই সরগরম। দুই মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। এক মন্ত্রীর বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে নগদ ও সোনা মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ধন সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। লোকসভার ভোট প্রচারে এসব যে উঠবেই তা বলাবাহুল্য। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয় নিয়ে প্রচার নতুন নয়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকে লাগাতার গত দশ বছর ধরে তা চলছে। বিজেপির অনেকের এখন ধারণা, মহিলাদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মজবুত জনভিত্তিই শাসক দলের অন্যতম সম্পদ। হিসাব করলে দেখা যাবে, রাজ্যের মোট ভোটারের অর্ধেকই মহিলা। তাই সেই জনভিত্তির ভাগ না পেলে ভাল ফল করা মুশকিল।
বস্তুত ভোট মরশুমে গ্রাম, শহরের মহিলাদের খুশি করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা দ্বিগুণ করার ঘোষণা করেছেন। ভরা ভোটের মাঝে অর্থাৎ মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সেই বর্ধিত ভাতা্ প্রায় ২ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকেও যাবে। একেই মোকবিলা করতে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই কারণেই সন্দেশখালির মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ বিজেপির এখন বড় হাতিয়ার। লোকসভা ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ইস্যুটি টেনে নিয়ে যেতে চাইবেন শুভেন্দু-সুকান্তরা।