
শেষ আপডেট: 1 March 2024 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অন্যতম হাতিয়ারই হল বাংলার সঙ্গে কেন্দ্রের বঞ্চনা। একশ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ইত্যাদি প্রভৃতি খাতে টাকা আটকে বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা হচ্ছে বলে বারবার অভিযোগ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার আরামবাগের সভা থেকে সেই অভিযোগে কড়ায়গণ্ডায় জবাব দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক সভার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী এদিন আরামবাগের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে সাত হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। তার মধ্যে অন্যতম হল, এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার ভরার প্রকল্প (বটলিং প্ল্যান্ট), কলকাতা বন্দরের নতুন কয়েকটি প্রকল্প ও আধুনিকীকরণ। তারপর বলেন, আমার আরও কিছু কথা আছে, পরের সভায় বলছি।
স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহল তৈরি হয়, কী বলতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী? আরামবাগে বিজেপির সেই সভা থেকে বাংলায় শাসক দলের নেতামন্ত্রীদের দুর্নীতি নিয়ে ঝাঁঝালো সমালোচনা করেন মোদী। তিনি বলেন যে, বাংলায় এক মন্ত্রীর বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, কি দেখেননি? এই দুর্নীতি বাংলার উন্নয়নে বাধা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঝরিয়া আর রাণীগঞ্জ কোলফিল্ডের প্রজেক্ট ৬ বছর আগে শুরু করেছিলাম। এই সরকার এগোতে দেয়নি। জগদীশপুর-হলদিয়া ও বোকারো-ধামরা পাইপলাইন প্রজেক্টে ১৮ হাজার কোটি টাকার কাজ চার বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। রাজ্য সরকার সহযোগিতা না করায় তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর রেললাইনের কাজও আটকে আছে। হাজারো কোটি টাকার এমন আরও অনেক প্রকল্প যা কেন্দ্র অনুমোদন করে দিয়েছে, কিন্তু বাংলার সরকারের কারণেই তা শুরু হচ্ছে না। এমনকী তৃণমূল সরকার গরিবের বাড়িও তৈরি করতে দিচ্ছে না।
গরিবের বাড়ি তথা আবাস যোজনা নিয়ে বাংলার সরকার তথা তৃণমূলের ক্ষোভ আছে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এই খাতে কেন্দ্র ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরের মাসেই বরাদ্দ আটকে দেয়। ওই প্রকল্পে রাজ্য সরকারেরও ৫ হাজার কোটি টাকা ম্যাচিং গ্রান্ট দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকায় মোট সাড়ে ১১ লক্ষ বাড়ি বানানোর লক্ষ্য ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্র আবাসের টাকা আটকে রাখায় বাংলার সাড়ে ১১ লক্ষ পরিবার তথা প্রায় সাত লক্ষ মানুষ মাথার উপরে পাকা ছাদ পেল না।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘গোটা দেশে চার কোটির বেশি লোককে পাকা ঘর দিয়েছি।‘ তারা ওই পাকা ঘরে দিওয়ালি করছেন, হোলি খেলছেন, দুর্গাপুজোও করছেন। বাংলার গরিবেরও সে অধিকার আছে কিনা?
মোদীর কথায়, বাংলা কচ্ছপের গতিতে চলছে। বাড়ি বাড়ি নলবাহিত জল দেওয়ার জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে। সেই টাকাতেও কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। যাদের জন্য আপনাদের বাড়িতে জল পৌঁচচ্ছে না, তাঁদের দানাপানি বন্ধ করে দেবেন কিনা?
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজনীতি ধারণার খেলা। তৃণমূল এই ধারণা তৈরি করতে চাইছে, বাংলার গরিব মানুষের দুর্গতির জন্য বিজেপি সরকার দায়ী। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা বোঝাতে চাইছেন, বাংলার মানুষের দুরাবস্থার দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণেই বাংলার মানুষ ভুগছে। প্রশ্ন হল, কার বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে সঙ্গত মনে হবে?