
শেষ আপডেট: 1 March 2024 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোট আসছে। এবং এই ভোটে এবার আরামবাগে মুখ বদল এক প্রকার অনিবার্য হয়ে উঠেছে। শাসক দল সূত্রে খবর, বর্তমান সাংসদ অপরূপা পোদ্দার ওরফে আফরিন আলির টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা এবার খুবই ক্ষীণ। শেষমেশ তিনি যদি ফের টিকিট পেয়ে যান তা হবে অষ্টম আশ্চর্য!
আশি সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হুগলির আরামবাগ লোকসভা আসনে একটানা জিতেছে সিপিএম। অনিল বসু জিতেছিলেন টানা সাত বার। ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে ৫ লক্ষ ৯২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি। সেই ভোটে আরামবাগে অবাধ রিগিং ও বুথ দখলের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
২০১৪ সালে এহেন আরামবাগ আসনে তৃণমূলের জয় ছিল ঐতিহাসিক মাইলফলক। সিপিএম প্রার্থীকে শুধু পরাস্ত করা নয়, তৃণমূল সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল। সেই প্রথম আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছিল অপরূপা পোদ্দারকে।
কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট আসতে আসতেই অপরূপার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হতে শুরু করে। বিশেষ করে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময়ে যে নারদ স্টিং অপারেশনের ফুটেজ প্রকাশিত হয়, তাতেও দেখা যায় অপরূপাকে। শুধু তা নয়, অপরূপা ও তাঁর স্বামী সাকির আলির বিরুদ্ধে দলের মধ্যে থেকেই অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তার পরেও উনিশের লোকসভা ভোটে প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁকে। উনিশে একবারে কান ঘেঁষে জিতেছিলেন অপরূপা। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র ১১৪২ ভোটের।
শাসক দলের একাধিক রাজ্য নেতার মতে, আরামবাগ আসনে এবার লড়াই কঠিন। তার বড় কারণ হল, ওই আসনে বামেদের ভোটের সিংহভাগ ধুয়ে মুছে চলে গেছে বিজেপির দিকে। সিপিএমের ভোট শতাংশ আরামবাগে কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকেছে। যা বাড়তি অ্যাডভান্টেজ দিচ্ছে বিজেপিকে। তার উপর তণমূলের সাংসদের বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। শুধু জেলা সংগঠনের রিপোর্ট নয়, দল সমীক্ষা করে দেখেছে অপরূপার আগের মতো জনপ্রিয়তা নেই। তাই মুখ বদল করে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাটানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
তবে শাসক দলের সামনে চ্যালেঞ্জ এখানেই শেষ নয়। ২০০৯ সাল পর্যন্ত আরামবাগ লোকসভা জেনারেল আসন ছিল। ২০১৪ সাল থেকে তা তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। ফলে আরামবাগে নতুন মুখ বাছতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার একটি তফসিলি মুখ খুঁজে আনতে হবে। তিনি আরামবাগের স্থানীয় কেউ না বাইরের কেউ এখন সেটাই দেখার।