
সায়নী ঘোষ - মিমি চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 27 May 2024 18:09
ঐশী মুখোপাধ্যায়
রবিবার একটি সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে মিমি চক্রবর্তীকে প্রার্থী করে ভুলই হয়েছিল। অনেকের মতে, মমতা এও ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, মিমি চক্রবর্তী যে নিজে থেকেই আর ভোটে দাঁড়াতে চাননি তা নয়। তৃণমূলই তাঁকে প্রার্থী করেননি। এ বার যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষও খোলাখুলিই বললেন, ‘মিমির খামতি ছিল’।
সায়নী বা মমতার এই কথা নিয়ে হয়তো নারদ নারদ লেগে যেতে পারত। কিন্তু ঘটনা হল, মিমিকে আর টিকিট না দিলেও তাঁর সম্পর্কে খুব অসন্তোষ প্রকাশ করেননি মমতা। তিনি বলেন, “আগেরবার তাঁর (মিমির) অবশ্য কোনও দোষ ছিল না। তিনি নিজের ফিল্ম জগতে ব্যস্ত। এটা আমাদেরই দোষ ছিল। সে জন্য আমরা শুধরে নিয়েছি।"
মিমিকে যে আর যাদবপুরে প্রার্থী করা হবে না তা সবার আগে একমাত্র লিখেছিল দ্য ওয়াল। সেই সঙ্গে এও লিখেছিল যে পরিবর্তে সায়নী ঘোষকে ওই আসনে প্রার্থী করা হবে। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সায়নীও বলেন, “আমি শুনেছিলাম আমাকে লোকসভা ভোটে প্রার্থী করা হবে। দ্য ওয়ালই সবার আগে লিখেছিল, যাদবপুরে প্রার্থী করা হবে আমাকে। তখনও দলের হাইকম্যান্ড সেটা আমাকে জানায়নি।”
সায়নীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মিমির হাত থেকে যাদবপুরকে কেমন অবস্থায় পেলেন? সায়নী বললেন, "যাদবপুর মিমির বিষয় নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিষয়। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাস বিষয়। যাদবপুরে মলয় মজুমদারের বিষয়... আমাদের বিধায়ক, পৌর প্রতিনিধিরা ২৪ ঘন্টা কাজ করছেন। মিমির দায়িত্ব অনেক ছিল, মিমি কিছু কাজ করেছে কিছু কাজ করতে পারেনি। খামতি রয়েছে, পূরণ করব আমি।"
সায়নী বোঝাতে চেয়েছেন, মিমির খামতি থাকলেও যাদবপুরকে ভুগতে হয়নি। তার কারণ, মলয় মজুমদার, অরূপ বিশ্বাসের মতো নেতারা এই লোকসভাকে আগলে রেখেছিলেন।
গত পনেরো বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, যাদবপুর লোকসভা আসনটি তৃণমূলের কাছে বাসের লেডিস সিটের মতো। পাঁচ বছরের বেশি টেকেননি কবীর সুমন, সুগত বসু ও মিমি চক্রবর্তী। তৃণমূল যদিও টিকে রয়েছে ফেভিকলের মতো।
সায়নী অবশ্য বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি ষোলো আনা জিতবেন। এবং তাঁর আশা যাদবপুরে স্থায়ী ও টেকসই হবেন তিনি। দ্য ওয়ালকে এর আগেও একবার সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সায়নী। তখন বলেছিলেন, “আমি যাদবপুরের মেয়ে, যাদবপুর নিজের মেয়েকেই চাইবে। আমার স্কুল,কলেজ থেকে শুরু করে গান, নাচ, টেবিলটেনিস সবটাই যাদবপুর জুড়ে।"
তাঁর কথায়,“মিমি নিজের মতো করে কাজের চেষ্টা করেছে। কিছু চ্যুতি-বিচ্যুতি থাকে। মিমি নিজেই বলেছে ও আগে একজন অভিনেত্রী। তবে আমি আগে সভানেত্রী। যাদবপুরের মানুষও আমাকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই গ্রহণ করছেন”।