
শেষ আপডেট: 21 April 2024 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে তৃণমূলের সভায় প্রকাশ্যে ফের চলে এল শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল। মাঝ সভা থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন বিধায়ক মনরঞ্জন ব্যাপারী।
বলাগড়ের একতারপুরে শনিবার সারাদিন প্রচার করেন হুগলির তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সন্ধেবেলায় বকুলতলায় সভা ছিল। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বলাগড় বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। সভা শুরু হয়েছে, তখনও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হননি। বিধায়ক বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।
বিধায়কের অভিযোগ বক্তৃতা শুরু করার পর তিনি সিএএ ও এনআরসি নিয়ে কথা বলছিলেন। মাঝ পথেই তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হয়। মঞ্চে তখন উপস্থিত ছিলেন বলাগড় ব্লক তৃণমূল ও হুগলি যুব তৃণমূল নেতৃত্ব।এরপর মঞ্চ থেকে নেমে তিনি সোজা জিরাটে তাঁর বিধায়ক অফিসে চলে আসেন।
বিধায়ক বলেন, "দলে বার বার অপমানিত হচ্ছি। দল সব জানে কিন্তু কারও কোনও হেলদোল নেই। আমি বহিরাগত আমি অনুপ্রবেশকারী এসব বিজেপি সিপিএম বলছে না, বলছে আমার দলের লোকেরাই। আমি সব কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাতে যাব।“
তাঁর কথায়, "বলাগড় তৃণমূল নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে। আমাকে একটা চেয়ার দেওয়া হয়েছে। আমাকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব কেন্দ্রীভূত করে রেখেছে নিজেদের হাতে, আমি শো-পিস। যেভাবে কমিটি তৈরি হয়েছে সেখানে মন মতো লোককে রাখা হয়েছে, আমার একটা লোককেও রাখা হয়নি। চেয়ারম্যানের নিজের পছন্দের দুটো লোক থাকতে পারবে না কমিটিতে? তৃণমূলের ফল বলাগড়ে কী হবে আমি জানি না, আমি নিজের মতো একা গাড়ি করে প্রচার করে বেড়াচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "দিদির আদেশে তৃণমূল দলটাকে শক্তিশালী করতে চেয়েছি। গত তিন বছরে আমি সাধ্যমত সেটা করেছি। স্থানীয় নেতাদের সেটা মনঃপুত হচ্ছে না। স্থানীয় নেতারা জনপ্রিয়তায় নীচে চলে যাচ্ছেন তাই তারা এমন করছেন।"
এই ঘটনা নিয়ে রচনা বলেন, "ওখানে কী হয়েছে আমি জানি না। কারণ ওখানে আমি ছিলাম না। তাই বলতে পারব না কী হয়েছে।"
এরপরে রচনা বলেন, "কারও সঙ্গে মনোমালিন্য হতে পারে কিছুটা মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে আমার মনে হয় না, কেউ কাউকে কোণঠাসা করতে চায়। তবে দিনের শেষে সবকিছু ভুলে আমরা একসঙ্গে কাজ করব এটাই হওয়া উচিত।"
বলাগরের বিধায়কের সঙ্গে বলাগরের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরোধ এর আগেও বারংবার প্রকাশ্যে এসেছে। বিধায়কের অফিস ভাঙচুর থেকে কাদা ছোড়াছুড়ি অনেক হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই দ্বন্দ্বের কথা মাথায় রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলি লোকসভায় কর্মিসভা করে গেছেন। প্রত্যেক বিধায়ককে তার নিজের এলাকা দেখার কথা বলেছেন। শুধুমাত্র বলাগড়ের ক্ষেত্রে হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরিন্দম গুঁইনকে দায়িত্ব দিয়েছেন।নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান করেছেন বলাগরের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে। সেই বিধায়কের এহেন বক্তব্য ভোটের আগে বলাগড়ে তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।