
লোকসভা নির্বাচন ২০২৪
শেষ আপডেট: 19 March 2024 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ এক অদ্ভুত সমাপতন! নির্বাচনে যাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়ে ভোট যুদ্ধে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাঁদের মধ্যে সচরাচর কোনও মিল দেখা যায় না। রাজনৈতিক দল, মত, আদর্শ সব কিছুতে বিস্তর অমিল থাকে। তবে এবারের নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত মিল!
নির্বাচন মানেই কোন রাজনৈতিক দলের কে প্রার্থী হবেন এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা কৌতূহল থাকে। তাঁদের শিক্ষা, পেশা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েও জানতে আগ্রহ থাকে মানুষের মধ্যে। কখনও কখনও এগুলো আবার প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধাও দেয়।
লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার আগে যাদবপুর কেন্দ্রে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএম তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছিল। যাদবপুরে তৃণমূল কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী সায়নী ঘোষ, বিজেপি মনোনীত প্রার্থী ড. অনির্বাণ গাঙ্গুলি ও সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে একটা অদ্ভুত মিল। তিন জনই 'বিধানসভা ফেল'।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে আসানসোল দক্ষিণ আসনে সায়নীকে হারিয়ে দেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পল। সিঙ্গুরে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী বেচারাম মান্না। বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছিল অনির্বাণকে। তৃণমূলের চন্দ্রনাথ সিনহা বোলপুরে অনির্বাণকে হারিয়ে দেন।
বিধানসভা ভোটে হেরে যাওয়া প্রার্থীকে লোকসভায় ফের প্রার্থী করার নজির যে নেই তা নয়। তবে সচরাচর তা না করাটাই দস্তুর। পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যাদবপুরে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বাংলায় এখন ক্ষয়িষ্ণু দল সিপিএম। ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে তারা নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি করে সামনে এগিয়ে দিতে চাইছে। এবং দলের রাজ্য নেতারা মনে করছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সৃজনরা যে লড়াই করছেন সেটাই অনেক। একটা সিঙ্গুরের ভোট দিয়ে তাঁকে বিচার করা ঠিক হবে না।
আবার বিজেপি এখন তুলনায় বড় দল হলেও প্রার্থী বাছতে তাঁদের হিমশিম অবস্থা। কর্মীর সংখ্যা বাড়লেও যুৎসই প্রার্থী খুব বেশি নেই। তাই অনির্বানদের ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে প্রার্থী তালিকায়।
তৃণমূলের অবস্থাও কমবেশি সেরকমই। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে তাঁদের স্থানীয় নেতা বা মুখের যে অভাব রয়েছে তা ধারাবাহিক নির্বাচনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া সায়নীকে প্রার্থী করার কারণও রয়েছে। প্রথমত বিধানসভা ভোটে তাঁকে কঠিন আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন দলের একাংশও সায়নীর হেরে যাওয়ার পিছনে বড় কারণ ছিলেন। তা ছাড়া সায়নী এখন যুব সভানেত্রী। সেই সুবাদে তাঁকে আরও একবার প্রার্থী করা যেতেই পারে।
এই তিন বিধানসভা ফেলের মধ্যে লোকসভায় জিতবেন একজনই। এখন দেখার ‘টেনথে’ (পড়ুন বিধানসভায়) ফেল করে ‘টুয়েলভথ পাশ’ করেন কে!