
অমেঠি ও রায়বেরলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে কংগ্রেস।
শেষ আপডেট: 2 May 2024 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমেঠি ও রায়বেরলি নিয়ে বৃহস্পতিবারই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কংগ্রেসকে। আগামীকাল শুক্রবার ওই দুই আসনে মনোনয়ন পেশ করার শেষ দিন। এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, রাহুল, প্রিয়ঙ্কা, নাকি গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ ওই দুই আসন থেকে লড়াই করবেন।
অমেঠিতে বিজেপির প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ স্মৃতি ইরানি গত মাস দুই যাবত প্রচার চালাচ্ছেন। স্মৃতি অমেঠিতে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে নিয়েছেন। বছরের গোড়ায় সেখানে গিয়ে উঠেছেন। কিন্তু রায়বেরলির প্রার্থী বিজেপি এখনও ঘোষণা করেনি।
এদিকে, অমেঠি, রায়বেরলি নিয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরে বক্তব্য, হাত চিহ্নের নেতারা এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি হারবেন জেনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি আছেন। কংগ্রেস তেমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না।
শুধু কংগ্রেস নয়, জল্পনা আছে রায়বেরলির বিজেপি প্রার্থী নিয়েও। শাহের দাবি তাঁরা তিনজন প্রার্থীর নাম বাছাই করে রেখেছেন। কংগ্রেস নাম ঘোষণা করা মাত্র বিজেপি তাদের প্রার্থী কে হবেন, জানিয়ে দেবে।
বিজেপির একটি সূত্রের খবর, সেই তালিকায় বরুণ গান্ধীর নামও আছে। গান্ধী পরিবারের সদস্য বিজেপি নেতা বরুণকে এবার তাঁর পিলিভিটের আসনে টিকিট দেয়নি দল। তিনি সেখানকার তিনবারে সাংসদ।
বরুণ হলেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কাদের খুড়তুতো ভাই, রাজীব গান্ধীর সহোদর সঞ্জয়ের ছেলে এবং ইন্দিরা গান্ধীর আর এক নাতি। তাঁর মা মানেকা এবারও উত্তর প্রদেশ থেকে বিজেপির প্রতীকে লড়াই করছেন। রাহুল বা প্রিয়ঙ্কা কেউ প্রার্থী হলে রায়বেরলি থেকে বরুণকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। গান্ধী পরিবাবের ক্ষমতার লড়াইকে ভোটে ইস্যু করতে চায় বিজেপি।
রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-বরুণরা কোনও দিনই পারিবারিক বিবাদ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। মুখ খোলেননি সনিয়াও। ইন্দিরা গান্ধী বেঁচে থাকতেই মানেকা বরুণকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ না হলেও ফোনে যোগাযোগ আছে বলে খবর। নানা সময়ে বরুণের কংগ্রেসের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। আশ্চর্যের হল, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর সমালোচনার সঙ্গে বরুণের বক্তব্যেও নানা সময়ে মিল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।
সেই বরুণকে রাহুল বা প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে প্রার্থী করে দিয়ে বিজেপি চমক দিতে পারে, পদ্ম শিবির থেকেই এমন আভাস মিলছে। রাহুল, প্রিয়ঙ্কাদের বায়বেরলি, অমেঠি নিয়ে অনুৎসাহের সেটাও একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁরা পারিবারিক বিবাদকে খোলা মাঠের আলোচনায় টেনে আনচে চান না।
কংগ্রেস সূত্রে আগেই জানা গিয়েছে, প্রিয়ঙ্কা নির্বাচনে প্রার্থী হতেই রাজি নন। তাঁকে অন্য রাজ্যের নিরাপদ আসন থেকেও নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছিল। তিনি রাজি হননি। তিনি গোটা দেশে দলের প্রচারেই সময় দিতে চান। নেতৃত্বকে এমনও জানিয়েছেন, আমি প্রার্থী হলে বিজেপি ফের পরিবারবাদ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাবে।
প্রিয়ঙ্কা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হলে নেহরু-গান্ধী পরিবারের ষষ্ঠ ব্যক্তি ভোটের রাজনীতিতে আসবেন। আর জিতে গেলে সনিয়া, রাহুলের সঙ্গে তিনজন সংসদে থাকবেন। সনিয়া ইতিমধ্যে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। ওয়ানাডে রাহুলের জয় নিয়ে তেমন একটা সংশয় নেই।
দলের বড় অংশই মনে করে, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্য এবং রায়বেরলি, অমেঠির মতো আসনে গান্ধী পরিবারের কেউ প্রার্থী না হলে ভুল বার্তা যাবে। প্রিয়ঙ্কাকে রাজি করানো না গেলে রায়বেরলি থেকে রাহুল প্রার্থী হতে পারেন, এমন প্রস্তাব নিয়ে কথা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কংগ্রেস নির্বাচনী কমিটি দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে দিয়েছে বলে পার্টির সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার অমেঠি, রায়বেরলির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।