
শেষ আপডেট: 3 April 2024 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়া ইস্তক ব্যারাকপুরের মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। কখনও বীজপুর তো কখনও জগদ্দল কিংবা ভাটপাড়া, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।
পিছিয়ে নেই বিজেপি প্রার্থী তথা ব্যারাকপুরের বিদায়ী সাংসদ অর্জুন সিংও। কখনও সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন সংসদ তড়িৎবরণ তোপদারের বাড়িতে কখনও বা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা মুকুল রায়, কমবেশি এলাকার ডান-বাম নির্বিশেষে বর্ষীয়ান সকলের বাড়িতে গিয়েই আর্শীবাদ নিচ্ছেন অর্জুন সিং।
একুশের ভোটে নৈহাটি বিধানসভা থেকে ৭৭ হাজার ৭৫৩ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন পার্থ। তবে প্রচারে এক ইঞ্চিও ফাঁক রাখতে নারাজ শাসকদলের প্রার্থী। চৈত্রের প্রখর তাপ উপেক্ষা করে বুধবার নৈহাটির ৪ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড চষে বেড়ালেন।
নিজের এলাকাতেও ঘাম ঝরাতে হচ্ছে? মুখের পরিচিত হাসি ধরে রেখেই পার্থর জবাব, "১ ভোটে হলেও জিতব!"
মাত্র ১ ভোটে জয়ের আশা! লড়াইটা কি খুব কঠিন? এক গাল হেসে পার্থর জবাব, "এটা কোনও সংখ্যাতত্ত্ব নয়, বাংলার প্রচলিত কথা হল, ১ ভোটে হলেও জিতব। মানে জেতাটা বড় কথা। সেটাই বলতে চেয়েছি।"
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন অর্জুন। বিজেপির টিকিটে লোকসভা ভোটে জেতার পর অবশ্য ফের তৃণমূলে ফেরেন তিনি। এবারেও টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে ফিরেছেন অর্জুন। প্রার্থীও হয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, গতবারে তৃণমূল থেকে ভোটের মুখে বিজেপিতে গিয়েও শেষ হাসি হেসেছিলেন অর্জুন। ব্যারাকপুরে অর্জুনের যে নিজস্ব দলবল আছে, তা পার্থরও অজানা নয়। তাই শুরু থেকেই কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইছেন না তিনি।
প্রচারের পাশাপাশি প্রতিদিনের মতো এদিনও অর্জুনের উদ্দেশে নতুন একটি কটাক্ষ ছুড়েছেন পার্থ। তাঁর দাবি, "কখনও বিজেপি, কখনও তৃণমূল। আসলে অর্জুন সিং দিদিরও নয়, মোদীরও নয়। উনি স্বার্থপর। এবারের ভোটে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।"
জয়ের বিষযে আত্মবিশ্বাসী অর্জুন অবশ্য বলছেন, "এসব কথার জবাব মানুষ ভোট বাক্সে দেবে। গতবারের চেয়েও ১ লাখ বেশি ভোটে জিতব!" প্রসঙ্গত, গতবারে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে ১৪ হাজারের বেশি কিছু ভোটে পরাজিত করে শেষ হাসি হেসেছিলেন অর্জুন সিং। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪২.৮ শতাংশ। তৃণমূল পেয়েছিল শতকরা ৪১. ৫ শতাংশ ভোট।