
শেষ আপডেট: 24 March 2024 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে বিধানসভা নির্বাচনের মতো লোকসভা নির্বাচনেও জোটের পক্ষপাতী বাম-কংগ্রেসের একাংশ নেতৃত্ব। জোটের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু আসন ছেড়ে রেখে দুই দলই একাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। ফলে ক্রমেই জোরাল হচ্ছিল বাম-কংগ্রেস জোটের সম্ভবনা।
তবে কংগ্রেসের আরও এক দফা প্রার্থী তালিকা সামনে আসতেই জোটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোচবিহার আসনে আগেই শরিকদল ফরওয়ার্ডব্লকের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। কোচবিহার নীতিশ চন্দ্র রায়কে প্রার্থী করেছে বামেরা। ওই আসনে এবার প্রার্থী দিল কংগ্রেসও। তফশিলি জাতি-র জন্য সংরক্ষিত এই আসনে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন পিয়া রায় চৌধুরী।
একই আসনে বাম এবং কংগ্রেসের প্রার্থীর নাম প্রকাশ হতেই বাম-কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই চর্চা শুরু হয়েছে, জোট কি তবে ভেস্তে গেল?
বাংলায় সাত দফায় ভোটের ঘোষণা করেছে কমিশন। প্রথম দফা ভোট হবে আগামী ১৯ এপ্রিল। প্রথম দফাতেই কোচবিহার আসনে ভোটগ্রহণ। ফলে কোনও একটি দল প্রার্থী প্রত্যাহার না করলে শেষ মুহূর্তে বাংলায় বাম-কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা ভেস্তে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী কিংবা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে দলীয় সূত্রের খবর, কোচবিহার নয়, পুরুলিয়া আসনকে কেন্দ্র করেই ফরওয়ার্ড ব্লক বনাম কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব।
১৯৭১ সাল থেকে পুরুলিয়া আসনে লড়ছে ফব। কিন্তু ওই আসনে এবারে দলের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতোকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের পাশাপাশি সিপিএমের একাংশ নেতৃত্বও চাইছেন, জোটের স্বার্থে ফরওয়ার্ডব্লক ওই আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিক। যদিও নিজেদের দাবিতে অনড় বামফ্রন্টের শরিক নেতৃত্ব।
এমন অবস্থায় ফরওয়ার্ডব্লকের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করতেই কোচবিহারে কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার দ্বন্দ্ব কাটাতে দুই দলের নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করেন।