
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলের পৈতৃক নয়: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, রেশনের টাকা কী করে বিজেপির বাবার হয়: কুণাল ঘোষ । দ্যা ওয়াল ফাইল
শেষ আপডেট: 1 April 2024 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার তমলুকে প্রচারে সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিতর্কিত মন্তব্য করেন। রাজ্য সরকার বা তৃণমূলের নাম মুখে না আনলেও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “শুধু আপনাদের বলবে হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে, বারো’শ টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এই জানোয়াররা এটা জানে না মানুষ ভিখিরি নয়। যে টাকা তোমরা দিচ্ছ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে তা তোমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টাকা নয়। তোমরা এজন্য কোনও কৃতিত্ব দাবি করতে পারো না।”
অভিজিতের এই কথাটা এদিন মুহূর্তে লুফে নিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র তথা তমলুকের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিজিৎ ঠিক কথা বলেছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তৃণমূলের পৈতৃক টাকা নয়। কিন্তু এই একই প্রশ্ন তাঁর নরেন্দ্র মোদীকেও করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বাংলায় প্রচারে এলে তাঁকে অভিজিতের প্রশ্ন করা উচিত, এই যে গরিব মানুষকে রেশনের চাল ডাল দেওয়ার ব্যাগে মোদীর ছবি লাগানো হচ্ছে, সেটা কেন? রেশনের টাকা কি বিজেপির বাবার টাকা?”
কুণালের কথায়, “শুধু তাই নয়, দেশের মানুষকে করোনার টীকা কি বিজেপির বাবার টাকায় দেওয়া হয়েছিল যে কোভিড পোর্টাল থেকে টীকার সার্টিফিকেটে মোদীর ছবি লাগানো ছিল? বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী যে ৪ কোটি মানুষকে আবাসের টাকা দেওয়ার ঢপবাজি করে গেলেন, সেটাই বা কার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে দেওয়া হয়েছে।“
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গে অভিজিৎ আরও বলেছেন, “এটা সরকারের উপার্জন করা করের টাকা যা সারা ভারত থেকে এসেছে। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টাকা নয়। তোমরা (পড়ুন তৃণমূল) এজন্য কোনও কৃতিত্ব দাবি করতে পারো না”।
অভিজিতের এই দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, ওনার উচিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, পঞ্চদশ ও ষোড়শ অর্থ কমিশনের বিষয়আশয় নিয়ে পড়াশোনা করা। বাংলার মানুষের থেকে যে করের টাকা আদায় করা হয়, সেই কেন্দ্রীয় করের টাকার মাত্র ৪১ শতাংশ রাজ্য পায়। অর্থাৎ এখান থেকে যে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রের সরকার তার বেশিরভাগ টাকা দিল্লি নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই টাকাতেই মোদী সরকার ফুটানি করছে। বাংলা কেন্দ্রের দয়ায় চলছে না। যে টাকা কেন্দ্র দেয় তা বাংলার মানুষের অধিকারের টাকা। দিল্লি বিজেপির যে জমিদারি ও সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা দেখা যাচ্ছে, সেটা খুব তাড়াতাড়িই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মাথায় ঢুকে গেছে।