
শেষ আপডেট: 2 March 2024 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগে বাঁকুড়ায় দলের কার্যালয়েই প্রায় ২ ঘণ্টা তাঁকে তালাবন্দি করে রেখেছিলেন কর্মীরা। পরে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয়বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। এভাবে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে দলের কর্মীরা তালাবন্ধ করে রাখায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। ওই ঘটনার পরও একাধিকবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রে কর্মী বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সুভাষ।
অন্যদিকে দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার আগেই গত ৮ ফেব্রুয়ারি হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, হুগলিতে এবারেও তিনিই দলের প্রার্থী হচ্ছেন। এরপরই বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জেলার অন্য তিনজন নেতার নামে দেওয়াল লিখন সামনে আসে।
দুটি ঘটনাতেই দলীয় সাংসদের প্রতি কর্মীদের একাংশের অসন্তোষ সামনে এসেছিল। ফলে বাঁকুড়া ও হুগলিতে সুভাষ এবং লকেটকে দল ফের প্রার্থী করবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই জল্পনা ছিল। তবে শনিবার সন্ধেয় বিজেপির প্রথম পর্যায়ে ২০ জনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে দেখা গেল, বাঁকুড়া এবং হুগলিতে যথাক্রমে সুভাষ সরকার ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ওপরেই আস্থা রেখেছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।
সম্প্রতি হুগলিতে দেওয়াল লিখন ঘিরে একাংশ কর্মীর অসন্তোষের ছবি সামনে এলেও এদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষনা হওয়ার পর বিজেপির হুগলি কার্যালয়ে একাংশ কর্মী ফুল, মালা দিয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে বরণ করেন। মিষ্টিমুখ করানো হয়। তবে লকেট বা সুভাষকে নিয়ে দলের অন্দরে স্থানীয়স্তরে চাপা অসন্তোষের কথা একান্তে মেনে নিচ্ছেন নেতৃত্বরা। কর্মী অসন্তোষ ভোটে অন্তর্ঘাতে পরিণত হবে কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।
এব্যাপারে সুভাষ সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন,"গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতি, সাম্প্রতিককালে সন্দেশখালির মতো ঘটনা মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবে। আমি জিতবেন, গত বারের থেকে বেশি ভোটের ব্যবধানে।"
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের রত্না দে নাাগকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন লকেট।