
বিজেপি গত লোকসভার চাইতে কম ব্যবধানে ফিরবে, অন্তত এমনটাই আশা করছে বাণিজ্যমহল।
শেষ আপডেট: 31 May 2024 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪৬ দিন। যেন এক মহাযুদ্ধ! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক মহোৎসব! ভারতের চলতি লোকসভা ভোটের ওপরেই কার্যত নির্ভর করে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণের সবকিছু। আর, ঠিক ততটাই অধীর আগ্রহে ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বাজার। তাবড় বাণিজ্য-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুম্বইয়ের শেয়ার বাজার থেকে বিশ্ববাণিজ্যে ভারতের অবস্থান-সহ অনেক কিছুই এখন ৪ জুনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
গত লোকসভা নির্বাচনে ৫৪২ আসনের মধ্যে ৩৫৩ আসন জিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় এসেছিল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ জোট। বিজেপি একাই পেয়েছিল ৩০৩ আসন, মোট ভোটের ৩৮ শতাংশ।
লোকসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে, বাজারের প্রতিক্রিয়া কী হতে চলেছে? সম্ভাব্য তিনটি ফলাফলের কথা দেখে নেওয়া যাক এক নজরেঃ
১) বিজেপি আরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এল
এবারে বিজেপির স্লোগান, 'এইবার, চারশো পার'। অন্তত চারশোটি আসন জিতে বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় আসাকেই পাখির চোখ করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর পারিষদরা। আইটিআই মিউচুয়াল ফান্ডের মুখ্য বিনিয়োগ অধিকর্তা রাজেশ ভাটিয়া বললেন, এমনটা হলে বাজার তরতরিয়ে ওপর দিকে উঠবে। বাণিজ্যমহলের কর্তারা আশা করেন, বিজেপি অনায়াসে ক্ষমতায় এলে আর্থিক বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়ে নীতি-প্রণয়ন করা হবে, পরিকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় বাড়বে। পাশাপাশি, উৎপাদন ক্ষেত্রেও সরকারি উদ্যোগ বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আইএফএ গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক গোয়েঙ্কা যোগ করেন, এটা হলে মুম্বই শেয়ার বাজারের সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি অন্তত ৪-৫ শতাংশ বাড়বে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমে ৮৩.৩২ টাকা থেকে ৮২.৮০ টাকার সমমূল্যে নেমে আসতে পারে। আরও একবার মোদী সরকার মানে বাজার মনে করে, নীতিনির্ধারণে বড় কোনও বদল আসবে না এবং বর্তমান ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে।
২) বিজেপি জিতল, কিন্তু আসন সংখ্যা কমে এল
লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ২৭২ আসন। বিজেপি যদি ২৭২ আসনের বেশিই পায় কিন্তু মোট আসন সংখ্যা নেমে আসে তিনশোর নিচে, তাহলে বাজার হয়ত সাময়িক একটু অস্থির হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু তাড়াতাড়িই আবার ঠিক হয়ে আসবে।
একাধিক শীর্ষ আর্থিক লেনদেন সংস্থার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই অস্থিরতা সাময়িক এবং বড় কোনও প্রভাব খুব একটা ফেলবে না। তার একটা বড় কারণ, ইতিমধ্যেই বাজার যা বুঝে গিয়েছে যে, এবারে এটাই সম্ভবত হতে চলেছে। সেইমত লগ্নিকারীরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছেন। বিজেপি তিনশোর বেশি আসন পেরোলে নিশ্চিতভাবেই বাজার অনেকটা স্বস্তিতে থাকবে, কিন্তু মোটের ওপর সেটা যে হবে না, তা একরকম সকলে ধরেই নিয়েছেন। ফলে টাকার দাম বা বন্ডের ওপরেও খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব আসবে না। বিজেপি সরকার কম আসন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও নীতিনির্ধারণে খুব একটা বদল হবে না।
৩) বিরোধী শক্তিজোট জিতে জোট-সরকার তৈরি হল
যদি কোনওভাবে দেখা যায়, বড় রকমের বদল এসে কংগ্রেসের নেতৃত্বে 'ইন্ডিয়া' জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতা দখলের জায়গায় গিয়েছে, তাহলে বাজার কার্যত টালমাটাল হয়ে উঠবে। অন্তত তেমনটা বলছেন বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞরা। আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল মিউচুয়াল ফান্ডের কর্তা মিতুল কালাবাডিয়া যেমন বলছেন, 'বাজার সব সময় চায় যাতে নীতিতে একটা ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সরকার একই থাকলে সেটা সম্ভব। সরকার বদল হলে সাধারণত নীতিতে বড় রকমের বদল আসে। বাজার একেবারেই সেই ঝুঁকিটা পছন্দ করে না। ফলে লগ্নিকারীদের মধ্যে হয়ত তড়িঘড়ি বেচে দেওয়ার প্রবণতা আসবে। হয়ত দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিরে বদল ভালও হতে পারে। কিন্তু বাজারের সেটা বুঝতে সময় লাগে। তাই প্রভাবটাও খারাপই হবে। অভিষেক গোয়েঙ্কা যেমন বললেন, বিরোধী জোট জিতলে শেয়ার বাজারে রীতিমত ধস নামতে পারে। সূচক অন্তত ১০ শতাংশ পড়বে।
কোটাক সিকিউরিটিজের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিভাগের প্রধান অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বললেন, এতে বড় ধাক্কার মুখে পড়বে টাকাও। যদি টাকা মূল্য হারাতে শুরু করে, তাহলে হয়ত টাকাকে থিতু করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।