
ভোট-যুদ্ধে জন্ম নিয়ন্ত্রণ
শেষ আপডেট: 23 April 2024 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরা ছয় ভাইবোন। দু'দিন হল সমাজমাধ্যমে প্রচার শুরু করেছে কংগ্রেস। কিন্তু আপনি কি জানেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বিজেপি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীরা কয় ভাইবোন। কতজন ভাইবোন যোগী আদিত্যনাথ, অমিত শাহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের?
হায়দরাবাদের এমপি এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি একটি লম্বা তালিকা প্রকাশ করেছেন দেশের প্রথমসারির বিজেপি নেতাদের ভাইবোনের সংখ্যা নিয়ে। তাঁর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী উপরে উল্লেখিত নেতাদের মধ্যে একমাত্র আরএসএস প্রধান ভাগবতের চার ভাইবোন। বাকিরা ভাইবোন মিলিয়ে সাতজন।
ওয়েইসির বক্তব্য, কথায় কথায় মুসলিমদের দিকে আঙুল তোলা হয়। বলা হয় মুসলমানরা গণ্ডায় গণ্ডায় বাচ্চা পয়দা করে। বিজেপি নেতাদের পরিবারের কী অবস্থা?
সন্তান সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাঁধলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ নীতি আলোচনায় আসারই কথা। গত সপ্তাহে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নির্বাচনী সভায় লালুপ্রসাদ যাদবকে নিশানা করে সন্তান সংখ্যা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। বলেন, আপনার যত কেরামতি সন্তান পয়দা করাতে। এই করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বারোটা বাজিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নীতীশের একটি মাত্র সন্তান। তাঁর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি মানসিকভাবেও পুরোপুরি সুস্থ নন।
সেখানে লালুপ্রসাদের নয় সন্তান। সাত মেয়ে বড়। তেজস্বী ও তেজপ্রতাপ ছোট। বিরোধীরা বলে থাকেন, পুত্র সন্তানের আশায় লালু প্রসাদ এতগুলি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নীতীশ ইদানীং বিহারের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। তা নিয়ে বলতে গিয়ে বিধানসভায় মহিলাদের উদ্দেশে বলে বসেন, স্বামীরা ঘনিষ্ঠ হতে চাইলে আপত্তি করুন। মুখ্যমন্ত্রীর ওই কথায় বিতর্ক তৈরি হলে মন্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চান।
নির্বাচনের ময়দানে নীতীশের অভিযোগ, লালুপ্রসাদ একটা সময় সন্তান সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এখন সন্তানদের রাজনীতিতে নিয়ে আসছেন। প্রসঙ্গত, বড় মেয়ে মিসা ভারতী, দুই পুত্র তেজপ্রতাপ ও তেজস্বীর পর লালুর আর এক মেয়ে রোহিণী এবার সারন কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন। এছাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ত্রী রাবড়ি দেবী তো আছেনই।
নয় সন্তানের পিতা হওয়া সত্বেও ওয়েইসির তালিকায় লালুপ্রসাদের নাম নেই। তিনি বাছাই করে বিজেপির প্রথমসারির নেতাদের ভাইবোনের সংখ্যা সংগ্রহ করেছেন। স্মরণকালের মধ্যে ভোটের প্রচারে জন্ম নিয়ন্ত্রণ নির্বাচনী ইস্যু হয়নি। জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীর সরকার নাশবন্দি বা জোর করে জন্ম নিয়ন্ত্রণের অপারেশন করানো হত। পরবর্তী বহু নির্বাচনে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইস্যু হয়েছিল জোর জবরদস্তি করা নিয়ে। নেতাদের ভাইবোন এবং সন্তান সংখ্যা নিয়ে কেউ কাউকে নিশানা করেননি।
ওয়েইসির বিজেপিকে নিশানা করার কারণ নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ভাষণ। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি মুসলিমরা বেশি সন্তানের জন্ম দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারের ঘোষণাকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কংগ্রেস দেশের সম্পদ সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে বিলিয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রী এমন কথাও বলেছেন, কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারী এবং মুসলিমদের সম্পত্তি বিলোবে।
প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতেই ওয়েইসি মোদী সহ বিজেপি নেতাদের ভাইবোনের সংখ্যা নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। মোদী জনসংখ্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজস্থানের বাঁশওয়ারার সভায়। গত রবিবার মোদীর সেই ভাষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সব বিরোধী দল। ওয়েইসির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা প্রচার করছেন। তবু নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।