
Election Commission of India
শেষ আপডেট: 15 March 2024 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় চেয়েছিল ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে একদিনের মধ্যেই নির্বাচনী বন্ডের তথ্য জমা দিতে তাদের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মতোই এসবিআই মঙ্গলবার নির্বাচনী বন্ডের তথ্য জমা দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। সেই তথ্য শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হত কমিশনকে। তবে তার আগেই সেই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে তাঁরা। কত তারিখে, কোন সংস্থা, কোন দল, কত টাকার বন্ড কিনেছিল, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছিলেন, এসবিআই সময় মতো তাঁদের কাছে সব তথ্য দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে সেই তথ্য যথা সময়ে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সময়ের আগেই সেই তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বন্ডের তথ্যে দেখা গেছে অর্থ প্রাপকদলের তালিকায় রয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল, শিরোমণি আকালি দলের মতো দলগুলি। তথ্য অনুযায়ী, বন্ড থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে বিজেপিরই। বন্ড থেকে রাজনৈতিক দলগুলি মোট যা আয় করেছে তার প্রায় ৪৭ শতাংশ গিয়েছে বিজেপির দখলে। টাকার অঙ্কটা প্রায় ৬ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে তৃণমূল, তাঁরা পেয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০৯ (১৩ শতাংশ) কোটি টাকা। কংগ্রেস নির্বাচনী বন্ড থেকে পেয়েছে ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা।
যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি টাকা করে নির্বাচনী বন্ড কেনার উল্লেখ রয়েছে তালিকায়। মোট দু'টি তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। একটিতে কোন সংস্থা, কবে, কত টাকার বন্ড কিনেছে, তার হিসেব রয়েছে। অন্যটিতে রাজনৈতিক দলগুলি কখন, কত টাকার বন্ড ভাঙিয়েছে, সেই হিসেব রয়েছে। দেশের কোন কোন সংস্থা, নির্বাচন বন্ডের মাধ্যমে কত টাকা করে চাঁদা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলিকে, তার তালিকাও আছে। কিন্তু কোন সংস্থা থেকে কোন দলে চাঁদা গিয়েছে, তার পৃথক উল্লেখ নেই এই তথ্যে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল থেকে হিসেব তুলে ধরা হয়েছে।
গত বুধবার নির্বাচনী বন্ড নিয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সুপ্রিম কোর্টকে এক হলফনামায় জানিয়েছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ২১৭টি বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৩০টিই ভাঙিয়ে নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। বাকি ১৮৭টিও ভাঙানো হয়েছে এবং তার অর্থ জমা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিলে।