
জরুরি ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের সকল জেলার পঞ্চায়েত সহিংসতার পরিসংখ্যানের চেয়ে নোটিশ নির্বাচন কমিশনের । দ্য ওয়াল ফাইল
শেষ আপডেট: 4 April 2024 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশের লোকসভা ভোট যথাসম্ভব রাজনৈতিক হিংসামুক্ত রাখতে বেনজির পদক্ষেপ করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেল বুধবার। চিফ ইলেক্টোরাল অফিস তথা সিইও দফতর থেকে সব জেলাগুলিকে এদিন নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটে বিধানসভা আসন ধরে ধরে যেখানে যত হিংসার ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও তথ্য পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কলকাতা হাইকোর্টে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল। ভোটের দিন বিক্ষিপ্ত ভাবে ব্যালট লুঠের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কমিশন এদিন জেলা নির্বাচন অফিসারদের পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছে, কোন কোন বুথে ভোট গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা সে ব্যালট লুঠের জন্য হোক বা পেশীশক্তি প্রয়োগের কারণে, সেই সব বুথের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে কমিশনকে।
কমিশন জেলা নির্বাচন অফিসারদের আরও জানিয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় দলের পোলিং এজেন্ট যে যে বুথে ছিল না বা তাঁদের থাকতে দেওয়া হয়নি, এমন সব বুথের তালিকাও দিতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এর অর্থ স্পষ্ট। ইলেকশন কমিশন ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করছে। এই নির্দেশের পর ধরে নেওয়া যেতে পারে, পঞ্চায়েত ভোটে যে সব এলাকায় অধিকতর হিংসার ঘটনা ঘটেছিল সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন বেশি হবে। ওই সব বুথে সব রাজনৈতিক দলের এজেন্ট যাতে থাকতে পারেন তা সুনিশ্চিত করবে কমিশন।
২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলায় বেলাগাম সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছিল। পাঁচ বছর ২০২৩ সালেও হিংসার ধারা অব্যাহত থাকে। তবে তা বহরে আগের পঞ্চায়েতের তুলনায় কম ছিল। আঠারো সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল শাসক দল। তা ছাড়া বাম ও বিজেপি আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি প্রার্থী দিতে সফল হয়েছিল।
তৃণমূলের মধ্যে এমনিতেই শঙ্কা ছিল যে এহেন ভোটের দষ্টান্ত সামনে রেখে ২০২৪ লোকসভা ভোটে কড়াকড়ি করতে পারে কমিশন। সম্ভবত সেই কারণেই হিংসায় রাশ টানার একটা চেষ্টা কেন্দ্রীয় ভাবে তৃণমূলের তরফে হয়েছিল। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে কখনও কেন্দ্রীয় ভাবে নিচের তলার উপর পুরো নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব নয়। এবার তারই খেসারত দিতে হতে পারে লোকসভা ভোটে।