
দিলীপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 5 June 2024 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার রাত ১১টার শিয়ালদহ-বনগাঁ লোকাল। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলে অধিকাংশ যাত্রীরই চোখ আটকে মোবাইলের স্ক্রিনে। খবর স্ক্রল করতে করতে এক ডেইলি প্যাসেঞ্জার পাশের পরিচিতকে বললেন, 'চুলোচুলি করতে গিয়ে বিজেপির কিছু নেতা নিজেদেরও ক্ষতি করল, দিলীপ ঘোষেরও।' পাশ থেকে সম্মতির সুরে অন্যজন বললেন, 'যা বলেছেন, মানুষটা সঙ্গে ঠিক হল না! দলের আকচাআকচির দাম দিতে হল!'
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই স্পষ্ট হতে শুরু করে গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দা, দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই রাজনীতিকের বায়োডেটাতেও এবার ঢুকে পড়তে চলেছে 'পরাজিত' শব্দটি। কারণ সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে তৃণমূলের কীর্তি আজাদের কাছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৮১ ভোটে হেরে গিয়েছেন দিলীপ।
তার পর থেকেই ট্রেনে-বাসে এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘোষবাবু।
তবে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে এমন আলোচনার কারণ আছে বৈকী। তিনি রাজ্যের বিরোধী দলের দাপুটে নেতা। 'হ্যাপেনিং নেতা'ও বলা যায়। কারণ তিনি মুখ খুললেই 'খবর' হয়। 'কুকথা' বলার জন্য স্বয়ং নির্বাচন কমিশনও তাঁকে সতর্ক করেছিল। শুধু তাই নয়, ঠোঁটকাটা স্বভাবের কারণে দলের অন্দরেও অনেকের অপছন্দের পাত্র তিনি। আবার দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর প্রশংসা শোনা যায় বিরোধীদের মুখেও।
তাই এহেন দিলীপ ঘোষের পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না আমজনতার অনেকেই।
বুধবার সকালেও শিয়ালদহ-বনগাঁ, শিয়ালদহ-হাসনাবাদ, শিয়ালদহ-বারাসত, শিয়ালদহ-দত্তপুকুর রুটের লোকাল ট্রেনের আলোচনাতেও সেই দিলীপ ঘোষ। 'গরুর দুধে সোনা' ঝরার টিপ্পনি কেটে একজন বললেন, 'লোকটা ঠোঁটকাটা হলেও অন্যদের মতো ধান্দাবাজ নন।'
দিলীপের হয়ে আর এক যাত্রীর সওয়াল, 'কেন নিজের জেতা আসন ছেড়ে প্রায় হারা আসনে লড়তে হবে ওঁকে? অন্য কেউ হলে তো প্রকাশ্যেই আপত্তি করে বসতেন। তবু তো উনি শেষ দিন পর্যন্ত লড়াইটা জারি রেখেছিলেন দলের কথা ভেবেই।'
কলকাতা থেকে জেলা, বাসের আলোচনাতেও কেন্দ্রবিন্দুতে সেই দিলীপ। একজন বললেন, 'বাংলায় বিজেপির কী ছিল? দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরই তো বিজেপি ১৮টা আসনে জিতেছিল।' সমর্থন জানিয়ে অপর জন বললেন, 'দিলীপদার সবচেয়ে বড় মাইনাস পয়েন্ট, উনি কাজ করেন, অন্যদের মতো ঢাক পেটান না!'
কথা বলে জানা গেল, এদের অধিকাংশই কিন্তু তৃণমূল বা অন্য দলের সমর্থক। তবু দিলীপ ঘোষকে পছন্দ করার কারণ কী? সকলেরই মোটামুটি এক উত্তর, 'উনি স্পষ্টবক্তা। অন্যদের মতে তেল দিয়ে কথা বলেন না!'
আমজনতার পাশাপাশি দিলীপ অনুগামীদেরও যে নেতার হারে মন ভারাক্রান্ত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আক্ষেপের সুরে তাঁরা বলছেন, "দাদা গর্ব করে বলতেন, 'দিলীপ ঘোষ কখনও হারতে শেখেনি', দলের কোন্দলে এবার তো 'হেরো' সম্বোধনও শুনতে হবে!"