.webp)
বিজেপি সমর্থকদের উল্লাস।
শেষ আপডেট: 5 June 2024 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিস্ময়কর নির্বাচনী ফল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া পড়ে গিয়েছে। শুধু ভারতই নয়, ২০২৪ সালে ভোট রয়েছে বেশ কয়েকটি দেশে। তাই এরকম একটা অভাবনীয় ফলাফলের উপর চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে সকলেই। কারণ, একটি দেশের নির্বাচনী ফলের উপর শুধু সরকার গঠনই নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিদেশি মুদ্রা বিনিয়োগ থেকে বৈদেশিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভরশীল।
মার্কিন-ভারত বিজনেস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জয়ের অভিনন্দন জানিয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমসিঙ্ঘেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। দুদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশাবাদী তিনি। আমেরিকার শীর্ষ এক কর্পোরেট লিডার এক বার্তায় জানিয়েছেন, মোদীর তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার ফলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক দৃঢ় হবে।
এছাড়াও জাপান সরকার, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী এমনকী মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু এক্সবার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদীকে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় মোদীকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। এই জয়ের ফলে ইতালি-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি।
শুধু অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তাই নয়, তৃতীয়বার হিন্দুত্ববাদী শক্তির ক্ষমতালাভে ভারতের ধর্মীয় চরিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় প্রকাশ চলছে বিশ্বজুড়ে। মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট ভোটফলের পর লিখেছে, জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর গত ২৩ বছরের রাজনৈতিক কেরিয়ারে কখনও রাজ্য কিংবা জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হননি। প্রতিবারই আগের রেকর্ড ভেঙে ভোটে জয় পেয়ে এসেছেন। কিন্তু, এখন সেই মোদী এক বিরাট ধাক্কা খেলেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে যে অপরাজেয়তার বলয় ছিল, তা ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রামমন্দির রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয় জনতা পার্টি অযোধ্যার সংসদীয় কেন্দ্রেই হেরে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ভোটের বিপরীত হাওয়ার এটা একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
পাকিস্তানি সংবাদপত্র দ্য ডন লিখেছে, মোদী জোট বিস্ময়করভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছে। যে শহরে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেই অযোধ্যাই খুইয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, বিজেপিকে মানুষ উচিত শিক্ষা দিয়েছে। আরব দুনিয়ার বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র মতে, এবার থেকে সংসদে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে ভারত সরকারকে। যে কোনও বিল পাশের ক্ষেত্রে সরকারকে এবার থেকে বিরোধীদের আস্থা অর্জন করতে হবে অথবা আপস করতে হবে। এর আগে একতরফা সরকারের সময় সরকার একতরফাভাবে আইন পাশ করে গিয়েছিল, এবার তা হবে না। এক কলম লেখকের মতে, তিনি (মোদী) সবসময় এমনভাবে নিজেকে তুলে ধরে রেখেছিলেন যে কোনও সময় আপস-সমঝোতা করতে রাজি নন।
ফিনান্সিয়াল টাইমস লিখেছে, এই ফল স্পষ্ট করে দিয়েছে জোট রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটা অবধারিত। অধিকাংশ ভারতীয় ভেবেছিলেন, মোদী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছেন। প্রচারও এমনভাবে করা হয়েছে যাতে তাঁর ব্যক্তিক্ষমতাই প্রতিভাত হয়।
মোদী-রাহুল বিতর্কে জড়িয়ে পড়া বিবিসির মতে, সমর্থকরা বলে বেড়িয়েছে মোদী শক্তিশালী নেতা। তাঁর দক্ষতা অপ্রতিরোধ্য। তিনি কথায় কথায় গ্যারান্টি দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর সরকার যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করেছে। এমনকী ভারতের তামাম মুসলিম সংখ্যালঘুদের মনে তাঁর শাসনকালে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাঁরা ভয়ে ছিলেন।