
কংগ্রেস - প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 18 March 2024 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একপ্রকার সাদামাটা ভাবেই শেষ হয়ে গেল রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। রবিবার মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে ইন্ডিয়া জোটের হাতে গোনা কয়েকটি শরিক দলের নেতা উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের মঞ্চে। ঘোষণা মতো সমাপ্তি জনসভাও মেগা সভার চেহারা নেয়নি। আসলে রাহুলের এই কর্মসূচির বাজেট মাঝপথে প্রায় অর্ধেক ছেঁটে দেয় কংগ্রেস হাইকমান্ড। রাহুল, জয়রাম রমেশের মতো কয়েকজন নেতা বাদ এবং হাতেগোনা স্বেচ্ছাসেবী বাদে বাকিদের থাকা-খাওয়ার খরচ প্রথমবারের মতো এবার আর দল বহন করেনি।
তার মুখ্য কারণ, আয়কর দফতরের সঙ্গে বিবাদে কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় তিনশো কোটি টাকা সিল হয়ে আছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে লেনদেন আপাতত বন্ধ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন এই ঘটনায় বিজেপির দিকে আগুল তুললেও ঘটনা হল, আয়কর অ্যাপেলিয়েট ট্রাইব্যুনাল এবং দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেও দল আয়করের সমস্যা থেকে মুক্তি পায়নি।
গত সপ্তাহে দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, কংগ্রেসকে প্রাথমিকভারে বকেয়া আয়কর বাবদ একশো কোটি টাকা মেটাতে হবে। ফলে লোকসভা ভোটের মুখে দল তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব দলের প্রার্থী তালিকাতেও পড়বে। কারণ, দলের কাছ থেকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে না বুঝতে পেরে অনেকেই ভোটে প্রার্থী হতে চাইবেন না, আশঙ্কা নেতাদের। খাতায় কলমে যাই বলা হোক না কেন, লোকসভা ভোটে জোরদার লড়াই করতে হলে প্রচারে আসন পিছু পাঁচ-ছয় কোটি খরচ হয়।
অথচ, পাঁচ বছর আগে, ২০১৯-এর ভোটে দল খারাপ ফলের রেকর্ড গড়লেও ভোটের তহবিলে বিপুল টাকা জমা হয়েছিল। এসবিআইয়ের জমা করা ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯-এর ভোটের সময় মাত্র তিন মাসে কংগ্রেসের তহবিলে ৫৮০ কোটি টাকা জমা পড়ে। যা ছিল ওই বছর দলের বন্ড খাতে আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি। ২০১৯-এর মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে দলের তহবিলে জমা পড়ে যথাক্রমে ২৭০, ২৬০ এবং ৫০ কোটি টাকা। এরপর ফের অক্টোবর মাসে জমা পড়ে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বন্ড।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে। ব্যবসায়িক এবং শিল্প সংস্থাগুলি ভোটের জল মেপে রাজনৈতিক দলগুলিকে টাকা দিয়ে থাকে। ২০১৯-র ভোটের আগে বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল। প্রথম পাঁচ বছরের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে গুরুতর অভিযোগ ছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কংগ্রেস-সহ উনিশটি বিরোধী দল মোদীর বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছিল।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আধা সেনার কনভয়ে জঙ্গি হামলা এবং জবাবে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের সার্জিক্যাল স্টাইকের পর। ওই দুই ঘটনায় দেশে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের ঢেউয়ে বিজেপি ভোটের বাক্সে বাজিমাত করে।
বন্ড তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা দিয়েছে, বিজেপির তহবিলে সারা বছর এই খাতে অর্থ জমা হয়েছে। কিন্তু বাকি দলগুলি ভোটের সময়ই মূলত মোটা অঙ্ক পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বন্ড থেকে মোটা অঙ্ক পেয়েছে তারা ২০২১-এ বাংলায় তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর।