
কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 27 April 2024 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু'বছর ধরে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা স্যাটে বহু মামলা ঝুলে রয়েছে। সমস্যায় পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। অবশেষে জট কাটল। আর কোন অজুহাত নয়, অবিলম্বে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটির ট্রাইবুনালের মেম্বারকেই সমস্ত মামলা শুনতে হবে, রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে এই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টিও তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল, সেচ দফতরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এবং আইসিডিএস সুপারভাইজার নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন ধরে শুনানি না হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ রাজ্য সরকার সমস্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও শূন্যপদে নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন অমিত প্রধান সহ ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী।
মামলাকারীদের আইনজীবী আশিষ কুমার চৌধুরী জানান, ২০২২ সালের আগস্ট মাস থেকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে চেয়ারম্যান না থাকায় থমকে গিয়েছে বিচার প্রক্রিয়া। রাজ্য সরকারের কর্মীদের প্রাপ্য আদায় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের বহু মামলা বিচারাধীন।
রাজ্য সরকারের কর্মীদের বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সার্কুলার নোটিফিকেশন বা সরকারি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের মামলা কোনও শুনানি হচ্ছে না, এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চে প্রথম মামলা হয়। সেখানেই বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, অবিলম্বে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ট্রাইবুনালকে সমস্ত ধরনের মামলা শুনতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য চেয়ারম্যান নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দিনের পর দিন মামলার শুনানি না করে পিছিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আইসিডিএস সুপারভাইজার নিয়োগ মামলা না শুনে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল আগামী সেপ্টেম্বর মাসে শুনানির দিন ধার্য করেছিল বলেও প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে অভিযোগ জানান মামলাকারীদের আইনজীবী। অবশেষে এবিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিলেন প্রধান বিচারপতি।