
শেষ আপডেট: 12 March 2024 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানায় বিজেপি সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে ঘোরতর সংশয় তৈরি হয়েছে। শরিক দল জননায়ক জনতা পার্টির সঙ্গে বিরোধের জেরে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর মঙ্গলবার ইস্তফা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে হরিয়ানায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কারণ, সেখানে বিজেপি বাদে দ্বিতীয় কোনও দলের সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় নম্বর নেই।
বিরোধের কারণ লোকসভার আসন ভাগ বাটোয়ারা। রাজ্যের দশটি আসনের মধ্যে তিনটি দাবি করেছে জেজেপি। বিজেপি একটির বেশি ছাড়তে নারাজ। জেজেপি নেতা তথা রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌতালা সোমবার রাতে দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু সমাধান সূত্র মেলেনি।
যদিও দুই শরিকের মধ্যে মতভেদের শেষ নেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌতালার পার্টি জেজেপির সঙ্গে নানা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী খট্টরের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপির অন্দরেও খট্টরের ভূমিকা নিয়ে বারে বারে প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী বদলের ভাবনাও ছিল দলে।
ওই রাজ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দায়িত্বে আছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। তাঁর তৎপরতায় দু’বার জোটের ভাঙন আটকানো সম্ভব হয়। সোমবার রাতে তিনি চণ্ডীগড় পৌঁছে গিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর উপস্থিতিতে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন খট্টর। সেখানে নির্দল বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্দলদের সমর্থনে সরকার টেকানো সম্ভব না হলে খট্টর পদত্যাগ করবেন, এমনটাই ঠিক আছে এখনও।
হরিয়ানায় বিজেপি-জেজিপি সরকারে শরিকি বিরোধের সূ্ত্রপাত হয়েছে কৃষক আন্দোলনের সময় থেকে। হরিয়ানা সরকারের কৃষকদের উপর পুলিশি অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের পাশাপাশি শরিক জেজেপি’ও বারে বারে প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খনা পরিস্থিতি নিয়েও সরব শরিক দল। মাস খানেক আগে দলের রাজ্য সভাপতি প্রকাশ্য রাস্তায় খুন হন। সেই ঘটনা নিয়েও বিরোধ তুঙ্গে ওঠে দুই শরিকের। ২০১৯-এ ভোটের পর বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া হয় জেজেপির। শরিক দলের সমর্থন ছাড়া বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে।