
রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কার গান্ধী এবং রবার্ট ভাদ্রা
শেষ আপডেট: 15 April 2024 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপিতে যোগ দিয়ে মামলা থেকে নিস্তার পেতে পারেন—তাঁকেও এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে শনিবার দাবি করেছেন গান্ধী পরিবারের জামাই রবার্ট বঢরা। তাঁর দাবি, বিজেপির একাধিক নেতা তাঁকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিজেপির তরফে এমন প্রস্তাব অবশ্য নতুন নয়। প্রায় রোজই নানা দলের কোনও না কোনও নেতা পদ্ম ফুলের পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন। আবার অনেকেই দাবি করছেন, বিজেপি তাঁকে দলে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছে। এমনই প্রস্তাব সনিয়া গান্ধীর জামাইকেও বিজেপি দিয়েছে শুনে রাজনৈতিক মহলে শোলগোল শুরু হয়েছে।
আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগে রবার্টে বিরুদ্ধে ইডি এবং আয়কর দফতর তদন্ত চালাচ্ছে। যদিও অভিযোগগুলি গুরুতর নয় বলেই জানা গিয়েছে। হরিয়ানায় একটি জমি কেনাতে আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ থেকে ইতিমধ্যে তিমি রেহাই পেয়েছেন। একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবার্ট বলেছেন, বাকি মামলাগুলি থেকে রেহাই পেতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন।
রবার্টের বক্তব্য সত্য ধরে নিলে বলতে হয় বিজেপি একবারে সরাসরি গান্ধী পরিবারে থাবা বসানোর চেষ্টায় নেমেছে। রবার্ট প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর স্বামী হলেও তাঁকে গান্ধী পরিবারেরই একজন মনে করা হয়। সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও সনিয়া, রাহুল গান্ধীদের নির্বাচনী প্রচারে স্ত্রী প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে তিনিও সক্রিয় থেকেছেন। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রাতেও তাঁকে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে। শনিবার রবার্ট বলেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে কংগ্রেসের হয়ে ভোটে প্রচার করছি। যদিও তা রাহুল ও সনিয়ার একদা লোকসভা কেন্দ্র অমেঠি ও রায়বেরলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
।
এ মাসের গোড়ায় রবার্ট আরও একবার খবরের শিরোনাম হয়েছিল অমেঠি অথবা রায়বেরলি থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। প্রিয়ঙ্কার স্বামীকে এর আগে কখনও রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে এত কথা বলতে শোনা যায়নি। বিশেষ করে সরাসরি ভোটযুদ্ধে নামার কথা শুনে অনেকেই বিস্মিত। যদিও গান্ধী পরিবার এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রবার্টের বক্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
শনিবার রবার্ট বলেন, ‘প্রিয়ঙ্কাকে আমি রায়বেরলি থেকে প্রার্থী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমি চাই প্রিয়ঙ্কার মতো নেত্রী সংসদে যান। কিন্তু স্ত্রী’র কাছ থেকে তিনি ইতিবাচক সাড়া পাইনি।’
রবার্টের দাবি, ‘অমেঠি, রায়বেরলিকে আমি হাতের তালুর মতো চিনি। সেখানকার মানুষ আমাকে চান।’ সনিয়া গান্ধীর জামাইয়ের দাবি, শুধু উত্তর প্রদেশ নয়, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা থেকেও তাঁর কাছে ভোটে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব ছিল। আবার উত্তর প্রদেশে তাঁর জন্মস্থান মোরাদাবাদের মানুষও তাঁকে চান।
টিভি সাক্ষাৎকারে রবার্ট বলেছেন, তাঁর কংগ্রেস ত্যাগ করার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাঁর কথায়, শাশুড়ি সনিয়া গান্ধী আমার প্রেরণা। তাঁকে দেখে আমি কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছি। কংগ্রেস ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।