.webp)
মোদী-শাহ
শেষ আপডেট: 5 June 2024 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিজেপির ঝুলিতে ছিল ১৮ আসন। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে সেই অভাবনীয় সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তিন বছরের মাথায় বিধানসভা ভোটে বাজিমাত করতে চেয়ে ব্যর্থ হয় পদ্ম শিবির। দুশো আসন জয়ের টার্গেট নিয়ে শেষে ৭৭ আসনে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। আর ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে এক ধাক্কায় ছয়টি আসন কমে গিয়েছে তাদের। তারমধ্যে উত্তরবঙ্গের আটটি আসনের দুটি হাতছাড়া হয়েছে। বাকি চারটি খুইয়েছে দক্ষিণবঙ্গে।
গত ১ জুন সপ্তম দফার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন তুলনামূলকভাবে বাংলাতেই বিজেপির ফল সবচেয়ে ভাল হতে চলেছে। অন্যদিকে, তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি অমিত শাহ বাংলা থেকে ৩০-৩৫টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে জুটেছে ১২টি আসন। উনিশের ফলের সঙ্গে তুলনা করলে বলা যায় বাংলায় পদ্ম শিবির ডাহা ফেল করেছে।
ঘটনা হল, শুধু প্রার্থী এবং দলই নয়, দলেই দুই সেনাপতিও ডাহা ফেল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এবার ২২টি জনসভা করেছেন। এক দুটি বেশি সভা করেছেন অমিত শাহ। আসন সংখ্যা ও সভার অনুপাতে বাংলাতেই সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন বিজেপির ম্যাচ উইনার জুটি মোদী-শাহ।
কিন্তু বাংলায় ম্যাচ উইনার তকমা হাতছাড়া হয়েছে তাদের। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে যে আসনগুলি বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে তার সব ক’টিতেই সভা করেছেন দুই মহারথী। তৃণমূলের হাতে থাকা আসন যা বিজেপি উইনিং সিট বলে এবার বাড়তি নজর দিয়েছিল সেই কলকাতা-উত্তর জোড়া ফুলের দখলেই থেকে গিয়েছে। কলকাতায় পদ্ম ফোঁটাতে শহরে রোড-শো করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আবার সন্দেশখালি নিয়ে বিজেপি গোটা রাজ্যে মাতামাতি করলেও এই দ্বীপভূমি যে লোকসভার অন্তর্গত সেই বসিরহাটে প্রচারে যাননি মোদী-শাহ। সেখানে তৃণমূল বিপুল ভোটে জিতেছে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কথায় কথায় আক্রমণ করলেও তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে প্রচারে যাননি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করেছিলেন মথুরাপুর লোকসভা তাদের দখলে আসতে পারে। সপ্তম দফার ভোটের আগে সেখানে সভা করেন নরেন্দ্র মোদী। এবারও জোড়াফুলেই আস্থা রেখেছে ওই এলাকার মানুষ।