
শেষ আপডেট: 9 March 2024 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুটি আসনে মতৈক্য না-হওয়ায় আসন্ন লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে বিজেপি-বিজেডি জোটে জট। আর আচমকা রাজনীতির চাকা ঘোরায় ওড়িশায় খানিকটা স্বস্তির শ্বাস নিল কংগ্রেস। যদিও এর আগে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ওড়িশায় কৌশলগত একলা চলো নীতির কথা আভাসে জানিয়ে রেখেছিল। শুক্রবার রাতে দিল্লিতে আসন সমঝোতা বৈঠক শেষে ভুবনেশ্বরে পা রেখে বিজেপি বিধানসভা ও লোকসভার সব আসনে প্রার্থী দিতে পারে বলে জানায়।
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পরে বিজু জনতা দলের সঙ্গে বিজেপি জোট গঠন করতে পারে, এই নিয়ে কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। কিন্তু, দিল্লিতে সমঝোতা বৈঠকে ভুবনেশ্বর ও পুরী কেন্দ্র নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয় দুদলের মধ্যে। সেখান থেকেই জোটের পাত্রে জল পড়ে যায়। আলোচনা সেখানেই থমকে যায়।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি মনমোহন সামল অন্যান্য নেতার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, বিধানসভার ১৪৭টি আসনে এবং লোকসভার ২১টিতে প্রার্থী দিতে পারি আমরা। তবে তাঁর দাবি, দিল্লির আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। জোট গঠন কিংবা আসন বণ্টনের বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জোটের বিষয়ে কোনও কথা হয়নি, আমরা একলাই ভোটে লড়ব।
তিনি আরও জানান, আমরা দিল্লি গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে প্রস্তুতি বিষয়ক আলোচনা করতে। দুটি ভোটেই বিজেপি নিজের শক্তিতেই লড়াই করবে। সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক নির্বাচনী সমঝোতার জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে আসন ভাগাভাগির আলোচনাতেই। ১৪৭ সদস্যবিশিষ্ট ওড়িশা বিধানসভায় নবীনের দল ১০০টি আসনে লড়ার দাবি জানায়। যাতে আপত্তি রয়েছে বিজেপির। উল্টোদিকে ২১টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপির দাবি ছিল ১৪টি। নবীন অনুগামীরা তা ছাড়তে বিমুখ। এখানেই আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, গত লোকসভা ভোটে বিজেডি ১২টি আসনে এবং বিজেপি ৮টি আসনে জেতেছিল।
সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজ্য বিজেপি নেতাদের মতে, ওড়িশায় এখন সরকার বিরোধী হাওয়া প্রবল। এই অবস্থায় বিজেপি একা লড়াই করলে ফল ভালো হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তারা জানিয়েছে, জোট গড়ে ৫০টিরও কম আসনে লড়লে দলের নিচুতলার কর্মীরা অসন্তুষ্ট হতে পারেন। সেই ঝুঁকি না নেওয়াই উচিত। দলের রাজ্য সহসভাপতি পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন বলেন, একা লড়লে আমরা ভালো ফল করব। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানান।