
নীতীশ কুমার ও লালু প্রসাদ যাদব।
শেষ আপডেট: 2 June 2024 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের মুখে গত জানুয়ারিতে বিহারের মহাগঠবন্ধন থেকে বেরিয়ে বিজেপির জোটে ফিরেছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সকালে ইস্তফা দিয়ে বিকেলে বিজেপি জোটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
বিহারে ইন্ডিয়া জোটের ফলাফল মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কা থেকে ভোটের মুখে নীতীশের পালা বদল, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজনীতিতে। কারণ, নীতীশ ছিলেন ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম মুখ। তাঁর ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়ে প্রচারে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। সেক্ষেত্রে নীতীশকে নিয়ে ভোটে লড়ে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়লে আগামীদিনে বিহারের রাজনীতিতে লালু প্রসাদ যাদবের সুদিন আবার ফিরবে কিনা, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল।
ফলে চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিহারের ফল নিয়ে কৌতূহল ছিল সব মহলের।
শনিবার ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার সমীক্ষা জানাচ্ছে, তৃতীয়বারের জন্য মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারে ফিরতে চলেছে। বিহারের ক্ষেত্রেও গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে একাধিক ভোট সমীক্ষক সংস্থা। সি ভোটার এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে বিহারের ৪০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৪ থেকে ৩৮টি আসন পেতে পারে এনডিএ জোট। কংগ্রেস, আরজেডি এবং বামেদের জোট পেতে পারে সাকুল্যে ৩ থেকে ৫টি আসন।
প্রায় একই পূর্বাভাস শুনিয়েছে টুডেস চাণক্য। তাদের মতে, বিহারে বিজেপি-সহ জোট কমবেশি ৩৬টি আসন পেতে পারে। চারটি বেশি বা কম, অর্থাৎ বিহারের মোট ৪০টি আসনেই বিজেপি-সহ জোটের জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ৪টি আসন। এক্ষেত্রেও চারটি কম বা বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিহারে ইন্ডিয়া জোট সর্বোচ্চ ৮টি আসন পেতে পারে, আবার খারাপ ফল হলে শূন্যতেও নেমে যেতে পারে বিরোধীরা।
একই মত জানিয়েছে অন্যান্য সমীক্ষক সংস্থাও। সেক্ষেত্রে পূর্বাভাস মিলে গেলে বিহারের রাজনীতিতে আগামীদিনে লালুপ্রসাদ-সহ বিরোধীদের জন্য কঠিন সময় আসছে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, আগামী বছরই বিহার বিধানসভার নির্বাচন রয়েছে।
তবে একথাও ঠিক, সব বুথ ফেরত সমীক্ষা সঠিক অনুমান করতে পারে তা নয়। বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে জনমতের একটা আভাস অবশ্যই পাওয়া যায়। তা থেকে ভোট শতাংশের ট্রেন্ড মোটামুটি ভাবে আন্দাজ করা সম্ভব। তবে ভোট শতাংশ থেকে আসন সংখ্যা বের করার প্রক্রিয়া জটিল। সেখানেই অনেক সময়ে ত্রুটি থেকে যায়। ফলে ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ৪ জুন গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
তাছাড়া, অতীতে লোকসভায় মুছে গিয়ে বিধানসভায় বিপুল সংখ্যায় ফিরে আসার নজির আছে। বেশি দিনের কথা নয়, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে বিহারে লালু প্রসাদের আরজেডি একটি আসনও পাইনি। ঠিক এক বছরের মাথায় বিহার বিধানসভার নির্বাচনে হয়েছিল সম্পূর্ণ উল্টো ফল যা গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলকে চমকে দেয়। বিধানসভায় লালু প্রসাদের দলই সবচেয়ে বেশি আসন জেতে। সেই ভোটে নীতীশ কুমারের জেডিইউ'র সঙ্গে জোট হয়েছিল লালু প্রসাদের আরজেডির। নির্বাচন পূর্ববর্তী বোঝাপড়া মেনে কম আসন পাওয়া ব্রিটিশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন লালু প্রসাদ। ফলে নিশ্চিত করে বলা মুশকিল বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল মিলে গেলেও লালু প্রসাদ এবং তার পুত্র তেজস্বীর রাজনীতি কতটা ধাক্কা খাবে।