
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি হামলায় জখম
শেষ আপডেট: 28 May 2024 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ভোট মিটতেই শাসকের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হল খণ্ডঘোষ। ব্লক সভাপতির সঙ্গে বিধায়কের বিরোধের জেরে সোমবার রাতে সংঘর্ষ বাঁধে খণ্ডঘোষের উখরিদের শেরপাড়ায়। জখম হয়েছেন পাঁচজন। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসাধীন। উখরিদ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান, তাঁর ছেলে শেখ মেহবুব রহমান এবং ভাইপো শেখ মাইনুল রহমানের আঘাত গুরুতর।
মেহবুব রহমানের দাবি, তারা খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীন চন্দ্র বাগের অনুগামী। সেই জন্য ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলামের (ফাগুন) নির্দেশে তার অনুগামীরা হামলা চালায়। তিনি বলেন, " আমরা গ্রামের শেরপাড়ায় বসেছিলেন। হঠাৎই একদল লোক মোটরবাইকে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল রড লাঠি ও টাঙ্গি। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলামের নির্দেশেই ওরা হামলা করে।"
তিনি জানান,অপার্থিব ইসলামের সঙ্গে অঞ্চল সভাপতির দ্বন্দ্বের কারণ ঠিকাদারি। ব্লক সভাপতি অপার্থিবর ভাই ও ছেলে ঠিকাদারি করছে। গোটা ব্লকের সব ঠিকাদারি কাজ ওরাই করতে চায়। বাধা দেওয়াতেই অশান্তির সূত্রপাত। এলাকার বাসিন্দা আলি হোসেন মণ্ডল বলেন, "বিধায়কের গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্লক সভাপতির অনুগামীদের দ্বন্দ্বের জন্যই গ্রামে মারপিট ও অশান্তি লেগেই আছে।''
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে শেরপাড়ায় অতর্কিতে হামলা চালায় ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির লোকজন। জখম পাঁচজনকে প্রথমে উদ্ধার করে খণ্ডঘোষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তিনজনকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "যাকে মারধর করা হয়েছে, সে আমাদের দলের অঞ্চল সভাপতি। সুতরাং প্রশাসনের কাছে দাবি অভিযুক্তদের যেন অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর সাজা দেওয়া হয়।" তবে দলের গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
অন্যদিকে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, "এই ঘটনার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আর গোষ্ঠী কোন্দল বা বিবাদের কোনও বিষয়ই নয়। আমি যা খবর পেয়েছি, এটা গ্রাম্য বিবাদ। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রশাসন বিষয়টি দেখুক।"
তৃণমূল এই গন্ডগোলকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে মানতে নারাজ হলেও বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির মধ্যে এলাকা দখল ও বালি থেকে তোলাবাজি নিয়ে গন্ডগোল হয়েছে।"
মোট ১৭ জনের নামে খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি সেখ হাবিবুর রহমানের স্ত্রী আসমাতারা বেগম। জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ জানান, খণ্ডঘোষের উখরিদের ঘটনায় খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।