
শেষ আপডেট: 28 March 2024 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: দলের মুমূর্ষু অবস্থা, এমন সঙ্কটে প্রয়োজনে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে হবে। তবু ঐক্যবদ্ধ লড়াই প্রয়োজন। কর্মীদের উদ্দেশে এমন বার্তা দিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন বাঁকুড়া তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী। তৃণমূল প্রার্থীর এই বক্তব্যেকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। তারা বলছে, ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে। লড়াইয়ের আগেই হার স্বীকার করে নিচ্ছেন শাসকদলের প্রার্থী।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা প্রকাশ্য এসে পড়েছিল। বহু জায়গায় গোঁজ প্রার্থী দিয়ে আবার কোথাও সরাসরি বিরোধী দলে গিয়ে বিক্ষুব্ধরা বিপাকে ফেলেছিল তৃণমূলকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার হুঁশিয়ারি দিলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমস্যা এড়াতে পারেনি তৃণমূল।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে পঞ্চায়েত গঠনের জন্য বিক্ষুব্ধদের ঘরে ফেরাতে বাধ্য হয় তৃণমূল। এবার লোকসভা নির্বাচনের মুখে কার্যত সমস্ত বিক্ষুব্ধদের জন্যই দরজা হাট করে খুলে দেওয়া হল। শুধু বিক্ষুব্ধদের দলে আহ্বান জানিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করার ডাকই নয়, প্রয়োজনে অভিমানী কর্মীদের দলে ফেরাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিলেন তৃণমূল প্রার্থী।
অরূপবাবু শুধু তৃণমূল প্রার্থী নন, তিনি বাঁকুড়ার তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদেও রয়েছেন। ফলে তাঁর এই বার্তাকে জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন অনেকে। বুধবার বাঁকুড়ার তৃণমূল ভবনে ২ নম্বর ব্লকের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সেখানেই অরূপবাবু কর্মীদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন। বলেন, "ঐক্যবদ্ধ ভাবে দল করতে হবে। যারা তা পারবেন না, তাঁরা দয়া করে দল ছেড়ে চলে যান। দলের এই মুমূর্ষু অবস্থায় আমি দলে বিভাজন হতে দেব না। প্রয়োজনে পায়ে ধরে নেব।"
এরপরেই দলের কর্মীদের প্রতি অরূপ চক্রবর্তীর বার্তা, "এই সময়ে কে বড়, কে ছোট, তা দেখার সময় নয়। মনোমালিন্য, মান অভিমান দূরে ঠেলে সকলে একসঙ্গে লড়াই করুন।" নিজের বক্তব্যের সমর্থনে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ''গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাগ অভিমান করে অনেকেই বিরোধী দলে চলে গিয়েছিল। তাঁরা আমাদের সম্পদ। কেউ দোষ করে থাকলে তিনি পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে নেবেন।“
অরূপ চক্রবর্তীর এই মন্তব্যে হাতে অস্ত্র পেয়েছে বিজেপি। বাঁকুড়া লোকসভার বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকারের কটাক্ষ, "অরূপ চক্রবর্তী আসলে তৃণমূলের আসল অবস্থাটাই বলে ফেলেছেন। একথা বলার অর্থ লড়াইয়ের আগেই তিনি হার স্বীকার করে নিয়েছেন।“