
শেষ আপডেট: 6 April 2024 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির পদে রয়েছেন বলাইচরণ মাইতি। অন্যদিকে বুথস্তরের নেতা মনোব্রত জানা। শনিবার ভোররাতে ভূপতিনগরের বোমা বিস্ফোরণ মামলায় এদেরই খোঁজে হানা দিয়েছিল এনআইএ। শাসকদলের দুই নেতাকে পাকড়াও করে আনার সময় গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয় এনআইএর আধিকারিকদের। গাড়ি ভাঙচুর হয়। পাথর ছোড়া হয় বলে দাবি। তবে দুই অভিযুক্তের স্বজন পড়শিরাই জানালেন, তাঁদের গ্রামে কেউ এনআইএর উপর হামলা চালায়নি।
নিনারুয়া অনলবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বলাইবাবুর স্ত্রী অরুন্ধতী মাইতি বলেন, "যখন আমাদের বাড়িতে এনআইএ ঢুকেছিল, তখন আমি ঘুমোচ্ছিলাম। ও সবে উঠে শৌচাগারে গিয়েছিল। এনআইএর লোকজন বাড়িতে ঢুকেই আমাদের সমস্ত মোবাইল ফোন জমা নিয়ে নেয়। এরপর সব দরজা জানলা বন্ধ করে দেয়। কাউকে আর ঘর থেকে বার হতে দেয়নি। পুরো বাড়িতে তল্লাশি করে। বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের কোনও উপায়ই ছিল না আমাদের। তা হলে কী করে লোক ডেকে গাড়ি ভাঙব! আমার স্বামীকে আধঘণ্টার জন্য যেতে হবে বলে তুলে নিয়ে যায়। তখন পাড়ার কেউ জাগেইনি।"
বিস্ফোরণের সঙ্গেও তাঁর স্বামীর কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেছেন বলাইবাবুর স্ত্রী। এদিকে মনোব্রতর বাসস্থান নারুবিলা গ্রামের বাসিন্দারাও দাবি করেছেন, অতর্কিতেই ঢুকেছিল এনআইএ। স্থানীয় বুথনেতাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। কেউ কোনও প্রতিরোধ তৈরির কথা ভাবতেই পারেননি। তাহলে কারা এনআইয়ের গাড়ি ভাঙল বা গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ল, সেই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি।
ভূপতিনগরের বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতার বলাইচরণ ও মনোব্রতর খোঁজে দীর্ঘদিন ধরেই তল্লাশি চলছিল বলে দাবি এনআইএর। গোয়েন্দারা জানান, এর আগে পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু ধরা যায়নি তাদের। অবশেষে শনিবার তাদের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়। এনআইয়ের দাবি, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে নারুয়াবিলা গ্রামে
রাজকুমার মান্নার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ হয়। মৃত্যু হয় রাজকুমারবাবু ও আরও দুজনের। এনআইএর অভিযোগ, সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলাই করা হয়নি। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ হাইকোর্ট এনআইএ কে এই ঘটনার তদন্তভার দেয়। ওই বছরের ৪ জুন তদন্তভার নেয় এনআইএ।