
শেষ আপডেট: 2 June 2024 08:59
শনিবার যে ভোট পরবর্তী সমীক্ষা প্রকাশ হয়েছে তাতে অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থার দাবি, বাংলায় তৃণমূলের চেয়ে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।
ভোট সমীক্ষক সংস্থা অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া-ইন্ডিয়া টুডের সমীক্ষাতে এগিয়ে রাখা হয়েছে বিজেপিকে। তাদের দাবি, বিজেপি পেতে পারে ২৬ থেকে ৩১টি আসন। তৃণমূল সাকুল্যে পেতে পারে ১১ থেকে ১৪টি আসন।
টুডেস চাণক্যর দাবি, বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে কমবেশি ২৪টি আসন। তারা বলেছে, ৫টা কম বা ৫টা বেশি হতে পারে। অর্থাৎ ৫টি আসন কমলেও গতবারে পাওয়া ১৮টির চেয়ে ১টি আসনে এগিয়ে থাকবে বিজেপি। অন্যদিকে ৫টি বাড়লে বাংলায় বিজেপির জন্য তা হবে নজরকাড়া ৪২ এ ২৯! চাণক্যর হিসেবে বাংলায় তৃণমূল পেতে পারে কমবেশি ১৭টি আসন।
সিংহভাগ ভোট সমীক্ষাতেই তৃণমূলের চেয়ে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে সমীক্ষা দেখে তৃণমূলের অনেকেরই মনোবলে ধাক্কা লেগেছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাদের বলেছেন, এক্সিট পোল দেখে বিচলিত না হতে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে রবিবার বিকেলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলের জেলা সভাপতি ও ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তিনি।
কারণ, ৪ তারিখ গণনার আগে সমীক্ষা দেখে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে গণনায় বিশেষ মনোযোগ দিতে পারবেন না দলের কর্মীরা। এছাড়াও প্রতি দফা ভোটের পর তৃণমূল অভ্যন্তরীণ ভোটফেরত সমীক্ষা করেছিল। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনও অবস্থাতেই বিজেপি তৃণমূলের চেয়ে বেশি আসন পাবে না। তাই কর্মীদের সমীক্ষা দেখে বিচলিত না হওয়ার জন্য রবিবার বিকেলে দলের জেলা ও ব্লক সভাপতিদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করতে পারেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
কারণ, সব বুথ ফেরত সমীক্ষা সঠিক অনুমান করতে পারে তা নয়। বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে জনমতের একটা আভাস অবশ্যই পাওয়া যায়। তা থেকে ভোট শতাংশের ট্রেন্ড মোটামুটি ভাবে আন্দাজ করা সম্ভব। তবে ভোট শতাংশ থেকে আসন সংখ্যা বের করার প্রক্রিয়া জটিল। সেখানেই অনেক সময়ে ত্রুটি থেকে যায়।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২২, বিজেপি ১৮ এবং কংগ্রেস ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সেবারে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল শতকরা ৪৩.৭ শতাংশ। বিজেপি পেয়েছিল ৪০.৬ শতাংশ ভোট। ওই ভোটে বিজেপির শতকরা প্রায় ১৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি হয়েছিল। অন্যদিকে ১৬.৭২ শতাংশ ভোট কমেছিল বামেদের। বামেদের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল শতকরা ৭.৫ শতাংশ। কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫.৭ শতাংশ।