
শেষ আপডেট: 14 March 2024 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি নেতারা ভোট চাইতে এলে কী করতে হবে, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির সভা থেকে সাধারণ মানুষকে তা জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের কথায়, "মিথ্যে কথা বলে টুপি পরিয়ে কেউ যদি একটা জিনিস বিক্রি করে চলে যায়, পরে আবার একই মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে আসে, আপনি কি করবেন? কি করা উচিত? ভিড় থেকে জবাব আসে, "বেঁধে রাখব।"
এবার অভিষেক বলেন, "১৯ এর লোকসভায়, ২১ এর একাধিক বিধানসভায় উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে আপনারা জিতিয়েছিলেন। প্রতিদানে গত ৩ বছরে বাংলার ১০০ দিনের টাকা, আবাসের টাকা আটকে রেখেছে। টাকা যাতে না দেওয়া হয়, তার জন্য বাংলার বিজেপি নেতারা দিল্লিতে দরবার করছেন। আর তিন বছর পর মিথ্যে ভাঁওতাবাজি করতে মোদীজি আবার ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছেন। জবাব চাইবেন না?"
খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন অভিষেক নিজেই, "এদের তো বেঁধে রেখে গণতান্ত্রিকভাবে জবাব চাওয়া উচিত।"
জনতার উদ্দেশে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানতে চান, "আপনারা কার সঙ্গে থাকবেন, যে রেশন দিচ্ছে না ভাষণ? দিদি না মোদী?" জনতার উচ্ছ্বাস দেখে বক্তব্য শেষে অভিষেকের ঘোষণা, "খুঁটি পুজোটা আজ করে দিয়ে গেলাম, বিসর্জনটা মে মাসের শেষে করব!"
অভিষেকের ভাষণের ফাঁকে ২ দফায় মোট ১৮ মিনিটের দুটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে বাংলার উন্নয়নের টাকা কেন্দ্র আটকে রাখার বিষয়ে বাংলার বিজেপি নেতারা কে কী বলছেন, গত লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে মোদী কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা দেখানো হয়। পাশাপাশি ধূপগুড়িকে মহকুমা করার যে প্রতিশ্রুতি অভিষেক দিয়েছিলেন, তাও জনগণকে দেখানো হয়।
অভিষেক বলেন, "৩হাজার কোটি টাকা খরচ করে রাম মন্দির হয়েছে, অথচ আপনি বাড়ির ছাদের টাকা পাননি। প্রচারে বিজেপির নেতারা রাম মন্দিরের কথা বলছেন। এদিকে ৮০ টাকার আদা ৪৩০ টাকা, ৫০ টাকার পেট্রল ১০২ টাকায় পৌঁছেছে। এর জবাব কে দেবে। রামমন্দির করেছে বলে ভোট দিতে হবে? ভোট দেবেন নিজের অধিকার দেখে।"
কী সেই অধিকার, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কথায়, "এবারের ভোট জল, কল, রাস্তা, বাড়ির ছাদকে সামনে রেখে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার ভোট। ভাঁওতাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ভোট। যাকে ইচ্ছে ভোট দিন, কিন্তু নিজের অধিকার দেখে ভোট দিন, এতটুকু বলার জন্য এসেছি।"
একই সঙ্গে অভিষেক একথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, "বিজেপিকে ভোট দিলে গ্যারেন্টি মোদীজির কাছ থেকে চাইবেন, আর আপনি মা-মাটি মানুষের সঙ্গে থাকলে আপনার দায়িত্ব আমার। বিজেপিকে ভোট দিয়ে তৃণমূলকে বলতে পারেন না, বাড়ির টাকা কই?" নাম না করে মোদীকে কটাক্ষ করে বলেছেন, "যে বাংলায় থাকে না, সে কীভাবে আপনাকে ওয়ারেন্টি দেবেন?"
ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের প্রচারে এসে ধুপগুড়িকে মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অভিষেক। উপ নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের অভিমত ছিল, ধুপগুড়ির ভোটে অভিষেকের ওই ঘোষণাতেই বাজিমাত করেছিল শাসক দল।
লোকসভা ভোটের মুখে ময়নাগুড়িতে দাঁড়িয়ে অভিষেক জানালেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এখানে ১০০ বেডের হাসপাতাল হবে। বললেন, "আমি এক কথার ছেলে, ভারতের ঝুট বলা পার্টির (বিজেপি) মতো ভাঁওতাবাজি করি না। কথা দিলে কথা রাখতে জানি।"