
শেষ আপডেট: 6 June 2024 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হতেই পোস্টাল ব্যালটে কিছু আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের পিছিয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল। যা দেখে সাত সকালে শাসকদলের এক নেতা বলেছিলেন, "ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে আমাদের পিছিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক!"
সমীক্ষাকে ভুল প্রমাণ করে রাজ্যের ৪২টি আসনের ২৯টিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। গতবারের চেয়ে সাতটি আসন বেশি। শুধু তাই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও তৃণমূলের জয় জয়কার।
কমিশনের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২৬টিতে লিড পেয়েছেন তৃণমূলের প্রাথীরা। বাকি ১৬টিতে এগিয়ে বিজেপি। বাম-কংগ্রেস জোট এখানেও মুখ থুবড়ে পড়েছে।
পোস্টাল ব্যালটের এহেন ফলাফল দেখে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃত্ব। তাঁরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী যে জনদরদি, রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের জন্য তিনি যে কাজ করেন, তা সরকারি কর্মচারীদের সিংহভাগ অংশের রায় থেকেই স্পষ্ট। ডিএ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ওরা কিন্তু তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের সিংহভাগ অংশের এমন রায়ে কিছুটা হতাশ বামপন্থী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। নেতৃত্বর মতে, সরকারি কর্মচারীদের একাংশ মেরুকরণের ভোটে প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁদের মতে, এমনটা হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন অনেক সরকারি কর্মী রয়েছেন, যাঁদের বোন, দিদি বা নিকট আত্মীয়রা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে এর নেপথ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাবও থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জেতার পর বিজেপির বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ অকপটে স্বীকার করেছিলেন, এবারের ভোটে ভীষণভাবে প্রভাব ফেলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তাই অনেক বিজেপি নেতা-কর্মীর পরিবারের ভোটও পেয়েছে তৃণমূল।