
শেষ আপডেট: 20 March 2024 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট বাচ্চাদের মুখে ঘন ঘন ইনফেকশন হয়। একদম সদ্যোজাত শিশু হোক বা পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সি বাচ্চা, প্রায়ই দেখা যায় মুখের ভেতরে জিভে ছোট ছোট জলফোস্কার মতো পড়েছে। লাল হয়ে গেছে মাড়ি, বা মাড়িতে ঘা হয়েছে। ঠোঁটের নীচে গুটি গুটি লাল দাগ। এমন হলে খুব সতর্ক হতে হবে বাবা-মায়েদের। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটবেলা থেকে এই সমস্যার যদি ঠিকমতো নিরাময় না হয়, তা হলে এর থেকে আগামী দিনে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
যে শিশুরা মায়ের দুধ খাচ্ছে বা বোতলে দুধ টানছে তাদের ওরাল হেলথের যত্ন একদম গোড়া থেকেই নিতে হবে মা-বাবাকে। বাচ্চারা দীর্ঘসময় যদি মায়ের দুধ খায় বা বোতলে দুধ টানে, তাহলে নিপল পরিষ্কার রাখতে হবে সবসময়। মায়েরা অনেক সময় বাচ্চার মুখে বোতল দিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করেন। ফলে একটানা দীর্ঘক্ষণ বোতলের নিপল শিশুর মুখের ভেতর থাকে। এর থেকে মুখে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বাচ্চাদের মুখের মাড়ি, জিভ, ঠোঁট এমনকী গালের ভিতরে এক ধরনের ফাঙ্গাস জন্মায়, যার নাম ‘ক্যানডিডা অ্যালবিক্যাপ’। এই ছত্রাকের সংক্রমণ হলে তা খুবই যন্ত্রণাদায়ক।
বাচ্চাদের মুখে আরও একধরনের সংক্রমণজনিত রোগ হয় যার নাম ‘বটল মাউথ সিনড্রোম’ (Bottle Mouth Syndrome)। ছোট বাচ্চাদের মুখের ভেতরে এমন সংক্রমণ হতে দেখা যায়। বাচ্চার মুথের ভেতরে লালচে ভাব, মাড়িতে লাল দাগ বা দুধের দাঁতে ছোপ দেখেলেই সতর্ক হতে হবে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এর কারণই হল বাচ্চাকে একটানা বোতলে করে দুধ খাওয়ানো। বুকের দুধ অথবা বেবি ফুডে যে সুগার রয়েছে, তা দাঁতে লেগে থাকে। মাড়িতেও লেগে থাকে। ব্যাকটেরিয়া এই সুগারকে অ্যাসিডে পরিণত করে, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। এর ফলে দাঁত ও মাড়িতে সংক্রমণ হয়। একে ডাক্তারি ভাষায় বলে বটল মাউথ সিন্ট্রোম বা বেবি বটল সিনড্রোম।
বটল মাউথ সিন্ড্রোমে শিশুর ওপরের পাটির দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি হয়। তাই মায়েরা ফিডারে করে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর বদলে চামচ দিয়ে দুধ খাওয়ানোই বেশি ভাল। ফিঙ্গার ব্রাশ দিয়েও শিশুর মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন শিশুর ওরাল হেলথ কেয়ার খুবই জরুরী।