
শেষ আপডেট: 7 December 2023 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেটটা যেন ঠেলে বেরিয়ে আসছে। প্যান্টের বোতামও আঁটছে না। বেল্ট আঁটতে গেলেই হাঁসফাঁস দশা। উঠতে-বসতে শরীরটা যেন গড়িয়ে যাচ্ছে। এখনকার চেনা ছবি এটাই। নিজের পছন্দের আউটফিট পরতে কে না ভালবাসেন! কিন্তু মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তলপেটের ওই মোটা চর্বিওয়ালা ভুঁড়িটা। তবে অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টির সাহায্যে ভুঁড়ি কমিয়ে তলপেট এক্কেবারে স্বাভাবিক করে ফেলা সম্ভব।
সমীক্ষা বলছে, রাজ্যের শহরগুলিতে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের অ্যাবডমিনাল ফ্যাট রয়েছে। রেশিও হল ২:১, মানে প্রতি দু'জনের মধ্যে একজনেরই ভুঁড়ি রয়েছে। গ্রামে এই রেশিও ৩:১। অর্থাৎ গ্রামে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষের ভুঁড়ি রয়েছে (Obesity)। আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিশ্রমবিমুখতা, এক জায়গায় বসে কাজ এবং জীবনযাত্রায় অসংযমই এর কারণ। আগে মানুষজন শারীরিক পরিশ্রম করতেন বেশি, এখন তা খুবই কম হয়। এমনকি গ্রামাঞ্চলগুলিতেও দেখা গেছে, আগের মতো অ্যাকটিভিটি কম। কায়িক পরিশ্রম কম হওয়ায় মেদের আধিক্য বাড়ছে। তাছাড়া খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, নেশার প্রকোপ তো রয়েছেই।
রোগা হওয়ার জন্য নানা রকম ডায়েট করেন অনেকে। এক্সারসাইজের সাহায্যও নেন। অনেকে এভাবেই নিজেদের বাড়তি মেদ কমিয়ে ফেলতে পারেন। অনেকের আবার গড়ন রোগাটে। কিন্তু তলপেটের কাছে থলথলে চর্বি রয়েছে। কিছু জেদি ভুঁড়ি সহজে যেতে চায় না। সেসব ক্ষেত্রে এই অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টিই ভরসা।
হরমোনের তারতম্যেও ভুঁড়ি বাড়তে পারে। কখনও অ্যাড্রিনালিন, কখনও সেক্স হরমোন, কখনও বা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। একটি হরমোনের কাজ অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। একটির ক্ষরণের তারতম্য হলে অন্যটির কাজও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে মেটাবলিজম প্রক্রিয়াতে গণ্ডগোল হয়। তখন খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, ফ্যাট বাড়তে থাকে।
অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি কী?
এটা এমন এক সার্জিক্যাল পদ্ধতি, যার দ্বারা তলপেটের দেওয়াল থেকে বাড়তি মেদ ও ত্বক সরিয়ে দিয়ে তলপেটকে সমান করে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি 'টামি টাক' বলেই বেশি প্রচলিত।
কখন করাবেন অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি?
ভুঁড়ির জন্য অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগেন, সে ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়াই যায়।
প্রেগন্যান্সির পর অনেকের তলপেট ভারী হয়ে যায়, তখন অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
পেটের অতিরিক্ত চর্বি, স্ট্রেচ মার্ক সরিয়ে স্লিম ট্রিম ফিগারের জন্য করা যেতে পারে।
অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টিতে তলপেটে কাটা হয়। সার্জারির সময় জেনারেল অ্যানাস্থেশিয়া করা হয়, তাই কোনও রকম ব্যথা টের পাওয়া যায় না। সার্জারির পরদিনই রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কসমেটিক ও প্লাস্টিক সার্জারি কেন্দ্রে এই সার্জারি করা হয়। ভুঁড়ির আয়তন ও অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টির পদ্ধতির ওপর এই সার্জারির খরচ নির্ভর করে।