
শেষ আপডেট: 26 August 2018 13:17
বনশ্রী গোস্বামী[/caption]
সিকিম বরাবরই বাংলার ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের কাছে হট ফেভারিট। সিকিম মানেই , গ্যাংটক,ছাঙ্গু-লেক,বাবামন্দির,নাথু-লা,রাবাং-লা,পেলিং,পেমিয়াংসি.ইউমথাং,জুলুক,কুপুপ,আরিতার । ছুটি পেলেই বাঙালী ছোটে সিকিমে। সামনে পুজো।ঘুরে আসুন না , সিকিমের কিছু অফবিট ট্যুরিস্ট স্পটে ! হয়তো অল্প চেনা,হয়তো ততটা বিখ্যাত নয়। বিখ্যাত নয় বলেই , হয়তো আজও সুন্দরী আছে ওরা।
তাডং,রিনচেনপং,কালুক,,বার্মিওক,ছায়াতাল,উত্তরে, শিলিগুড়ি থেকে ১২৩ কিমি দূরে পশ্চিম সিকিমের পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা মিষ্টি একটি গ্রাম তাডং (১৬৯৯মি )।গ্রামের উত্তরে নীল আকাশের ক্যানভাসে ১৮০ ডিগ্রি কোণ জুড়ে অবস্থান করছে হিমালয়ের নামজাদা শৃঙ্গের দল। বরফের মুকুট পরা কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮৫৮৬ মি),ফ্রে পিক (৫৮৩০ মি ) ,কাব্রূ,(৭৩১৬মি) ,সিনিওলচু(৬৮৮৮মি) রাতং(৬৬৭৮ মি ) ,তালুং(৭৩৪৯মি ) ,কোকতাং(৫৭৮১মি ) ,পাণ্ডিম(৬৬৯১ মি ),সিমভো(৬৮৫৫ মি )। গ্রামের যেকোনো অংশ থেকে এই অবিস্মরণীয় দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারেন আপনি। তাডং গ্রামের সুপ্রাচীন শ্যাওলা ধরা ভিজে ভিজে সুগন্ধী পাহাড়ের পাইন,ওক,ম্যাপল,বার্চ ,সিলভার ফার গাছের মাথায় কুয়াশার চাদর আপনাকে নেশা ধরিয়ে দেবে । স্রেফ, পায়ে হেঁটে এদিক ওদিক ঘুরুন। পাকদণ্ডি পথে উঠে যান নেমে যান ছোট ছোট পাহাড়ি হ্যামলেট গুলোতে ভালবাসা । পাবেন হাসি খুশি মানুষ গুলোর কাছে।
তাডং কে বেসক্যাম্প করে তিনদিনে ঘুরে নিন কালুক, রিংচেনপং, রিংচেনপং মনাস্ট্রি,ওল্ড ব্রিটিশ বাংলো বা রবীন্দ্র স্মৃতি বাংলো (রবি কবির পদধূলি প্রাপ্ত)। দেখুন রিসাম গুম্ফা আর মহাকালী মন্দির । বনপথে ঝাণ্ডিদাঁড়া পর্যন্ত ছোট্ট একটা ট্রেক করতে পারেন । কালুক বাজার থেকে গাড়ি ভাড়া করে একবেলায় ঘুরে আসতে পারেন , দুটি সুপ্রাচীন পাহাড়ি যমজ গ্রাম হী এবং বার্মিওক(১৫০০ মি )I
হী গ্রামের আরেক দ্রষ্টব্য, সুন্দরী ছায়াতাল। তার টলটলে জলে, আসেপাশের পাহাড়ের জলছবি দেখেই কয়েক ঘন্টা কাবার হয়ে যাবে। পরিষ্কার আবহাওয়ায় , সবুজ পাহাড়ের পিছন থেকে উঁকি মেরে আপনাকে দেখবে রুপসী কাঞ্চনজঙ্ঘা। বার্মিওক যাবার পথে দেখে নিন স্থানীয়দের পবিত্র তীর্থ শ্রীজোংগা মন্দির ।
যদি হাতে দিন বেশি থাকে, কালুক থেকে গাড়িতে হিলে চলে যান । ভোরে বেরিয়ে, হিলে থেকে দেড় দুঘন্টায় সাড়ে চার কিমি ট্রেক করে পৌঁছে যান সিঙ্গালীলা রেঞ্জে অবস্থিত সপ্নীল ভার্সে ভ্যালীতে । রডোডেনড্রন স্যাংচুয়ারি নামে সারা বিশ্বে বিখ্যাতভার্সে ভ্যালী । সহজ ট্রেক রুটের দুপাশে , প্রিমুলা,ম্যাগ্নোলিয়া নামের ভাই বোনদের নিয়ে যাত্রাপথকে রাঙ্গিয়ে দিয়েছে এপথের সেরা আকর্ষণ , রডোডেনড্রন। প্রকৃতি দেবতা বুঝি বিশ্বের সব রঙের আবীর এখানে উজাড় করে দিয়েছেন । ভাগ্য ভাল থাকলে লাজুক রেড পান্ডারও দেখা মিলতে পারে।যাত্রা পথে , আবহ সঙ্গীতের দায়িত্বে নেবে জানা অজানা কয়েকশ প্রজাতির পাখি ।


