
শেষ আপডেট: 10 October 2023 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিব্যি সুস্থ মানুষ। আচমকাই হাত-পা অবশ, আটকে যাচ্ছে কথা, বেঁকে যাচ্ছে মুখ। এটাই অ্যালার্মিং। তখনই বুঝতে হবে স্ট্রোক হয়েছে। আচমকা স্ট্রোক বড় বিপদ ডেকে আনে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন হলেই স্ট্রোক হয়। কোনও কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সংকীর্ণ হয়ে বা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তখন অক্সিজেনের অভাবে ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন যে শারীরিক অবস্থা তৈরি হয় তাকে স্ট্রোক বলে। বর্তমান সেডেন্টারি লাউফস্টাইলের যুগে এই স্ট্রোকই সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।
ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গ্যানাইজেশন এবং ল্যানসেট নিউরোলজি কমিশন তাদের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দাবি করেছে, বিশ্বে স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু বেড়ে চলেছে। বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের প্রতি ৪ জনের ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। যেভাবে রোজকার জীবনযাপনে শরীরের উপর অত্যাচার চলছে, অবসাদ-স্ট্রেস বাড়ছে তাতে আগামী কয়েকবছরে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। গবেষকদের দাবি, ২০৫০ সালে শুধুমাত্র স্ট্রোকের কারণেই এক কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে স্ট্রোকের প্রকোপ অনেক বাড়বে।
স্ট্রোক আসে নিঃশব্দে
স্ট্রোক জানান দিয়ে আসে না। যদি একসঙ্গে পর পর এমন স্ট্রোক হয় তাহলে স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে রোগীর। ভ্যাস্কুলার ডিমেনশিয়া নামে এক ধরনের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশ হতে পারে রোগীর। এই ধরনের স্নায়বিক রোগে সব কিছুই অচেনা লাগতে শুরু করে রোগীর। চেনা-পরিচিত জনকেও ভুলে যায়। কোনও স্থান বা মানুষজনকে চিনতে পারে না। অকারণে হাসি বা কান্না পায়।
চিকিৎসকদের মত, ১ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্তর মস্তিষ্কের জমাট বাঁধা রক্ত ক্লট বাস্টিং ওষুধ প্রয়োগ করে গলিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক করতে পারলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। স্ট্রোকের ১ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা হলে সব থেকে ভাল ফল পাওয়া যায়, তাই এই সময়কে বলে ‘গোল্ডেন আওয়ার’। তাই সময় নষ্ট মানেই প্রাণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
স্ট্রোকের কারণে কতটা ড্যামেজ হয়েছে সেটা বোঝা যাবে কী করে?
স্ট্রোকের স্কোরিং ক্রাইটেরিয়া আছে। একে ডাক্তারি ভাষায় বলে, এনআইএইচ স্ট্রোক স্কেল (NIH Stroke Scale)। যদি দেখা যায় এনআইএইচ স্কোর ৫-২৫, তাহলে ধরে নেওয়া হয় মডারেট স্ট্রোক। সেক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও কতক্ষণ আগে স্ট্রোক হয়েছে সেই সময় দেখে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করার কথা বলা হয়। সিটি স্ক্যান করলে ব্রেনে হেমারেজ হয়েছে কিনা বোঝা যায়। যদি হেমারেজ না হয় তাহলে বুঝতে হয় ইস্কিমিক স্ট্রোক হয়েছে। সেক্ষেত্রে রোগীকে এমআরআই করিয়ে নিতে বলা হয়। সেই সঙ্গে ব্রেনের অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করিয়ে নিতে বলা হয়।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কী কী মাথায় রাখতে হবে
১) বাড়তি কোলেস্টেরল স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২) ওবেসিটি বা স্থূলত্ব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় ১৯%।
৩) অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ।
৪) অতিরিক্ত স্ট্রেস, মানসিক চাপ, উদ্বেগ থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৫) পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড বেশি খেলে আচমকা স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৬) ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা আচমকা বেড়ে গেলে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়েটে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
৭) সিগারেট ও অতিরিক্ত মদ্যপান ব্রেন স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হতে পারে।
৮) হার্টের অসুখ বা হার্টে সার্জারি হলে এবং তারপরে নিয়ম মেনে না চললে, খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, শরীরচর্চা না করলে সাইলেন্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।