কেয়া শেঠ
চারপাশে দূষণ কমে গেছে, খবর পেয়েছেন? আকাশ ঝকঝকে নীল, বাতাস ফুরফুর করছে। শব্দ নেই বেশি। লকডাউনের থমথমে এই পরিবেশে প্রকৃতি কিন্তু একটু হলেও শান্তি পেয়েছে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দেখলেই মালুম পড়ে, মাত্র কয়েক দিনের লকডাউনে, কতটা ভাল আছি আমরা। প্রকৃতির ভাল থাকা তো আমাদেরও ভাল থাকা!
তাই এই প্রকৃতিকে উপভোগ করা খুব জরুরি। সারা বছর প্রায়ই মেক আপ করতে হয় অল্পবিস্তর। এই ক'দিন একদম মেকআপ না-ছোঁয়া থাকুক আপনার ত্বক। ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন বারবার। নিয়ম মেনে ত্বক পরিষ্কার করুন, নারিশ করুন। কৃত্রিম মেক আপ চড়াবেন না। নিঃশ্বাস নিক আপনার ত্বক। চুলেও তাই। কেমিক্যাল ছোঁয়াবেন না। খলা হাওয়ায় শ্বাস নিক চুল। চুল-ত্বকের মতো নখও নিঃশ্বাস নেয়, জানতেন? নেলপলিশ তুলে ফেলুন একদম। খালি থাকুক নখ। আর যাঁরা এক্সটেনশন করিয়েছেন, তাঁরাও কৃত্রিম নখ খুলে রাখুন। নখকে নারিশ করুন ভাল করে।
কনুই, হাঁটুতে কালো ছোপ পড়েছে না? কিছু করার সময়ই তো পান না সারা বছর। এখন ঘরে থাকার অলস দিনগুলোয় লেবু ঘষে নিতে পারেন একটু। অন্য সময় সুযোগ কোথায় হয়, এখন হবে। সময় নিয়ে সারিয়ে তুলুন নিজেকে। দাঁতই বা বাদ থাকবে কেন? নুন-তেল দিয়ে সময় নিয়ে মেজে দেখুন তো, কেমন ঝকঝক করে!
আরও একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমাদের অনেকেরই দৈহিক পরিশ্রম কম হচ্ছে এখন। ফলে প্রকৃতির গুণে বাইরে থেকে যতই জেল্লা বাড়াই, শরীরের ভেতরের ফিটনেসও কিন্তু জরুরি। সকালে আর সন্ধেয় আধ ঘণ্টা করে ছাদে ফ্রি হ্যান্ড করতেই পারি আমরা এখন। করতে পারি যোগব্যায়াম। ছাদ না থাকলে বড় বারান্দাতেও করা যায় এই অভ্যেস। একান্তই সম্ভব না হলে, অন্তত নিয়ম করে একটু সময় খোলা হাওয়ায় হাঁটা যায়। এতে শুধু ব্যায়াম নয়, খোলা হাওয়াটাও নেওয়া হবে। ফুসফুস তরতাজা হয়ে যাবে আবার।
এই পুরো চর্চাটাই কিন্তু রুটিন করে করতে পারলে খুব ভাল। এমন হতেই পারে, সকালে আধ ঘণ্টা আমি শরীর চর্চা করে, পরের আধঘণ্টা ত্বকের চর্চা করলাম। শুধু শরীরচর্চাই বা কেন। এই অন্দরবাসের সময়ে তো শরীরের ভিতরের রোদ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারা যায়। কঠিন কিছু নয়, রোজ মধু খাওয়া যায় নিয়ম করে। তুলসীপাতা ফুটিয়ে জল তো বটেই। কারণ এখন কোনও রকমের ঠান্ডাই লাগানো উচিত নয়। সেইসঙ্গে প্রতিবার চায়ের সঙ্গে আদা থেঁতো করে মেশালেও ফ্রেশ লাগবে শরীর। আমলকি বাড়িতে পড়ে থাকে প্রায়ই, খাওয়া হয় না মনে করে। এখন সেই সব 'হয়না'গুলোকে হওয়ানোর সুযোগ মিলেছে। তাই শুকনো আমলকি জলে ভিজিয়ে সেটা ফুটিয়েও খাওয়া যেতে পারে।
মোটকথা, আগামীর পরিস্থিতি আমরা কেউ জানি না। কিন্তু এটা জানি, লকডাউনে ঘর থেকে বেরোতে পারব না আমরা। ঘরেই কাটাতে হবে, ভালও থাকতে হবে। তাই সে ভাল থাকা সব দিক থেকেই জরুরি। ফলে সময়টাকে একঘেয়েমি বা বিরক্ততে পরিণত না করে যদি ইতিবাচক কাজে লাগানো যায়, সময়ের অভাবে না করে ওঠাগুলোকে করে ফেলা যায়, তবে তা সব দিক থেকেই সুন্দর।